নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ স্বাধীনতা দিবসের দিন বা প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন বা ২৩ জানুয়ারি, ২রা অক্টোবর বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের পক্ষ থেকে পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। শিকলি করে সাজানো হয় ছোট ছোট কাগজের বা প্লাস্টিকের পতাকা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঠিক পরের দিনই হাওয়ায় উড়ে গিয়ে বা ছিঁড়ে গিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এইসব পতাকা। কোথাও নর্দমায় কোথাও খোলা রাস্তায় ছোট ছোট কাগজের সেই জাতীয় পতাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেখে সেইভাবে কারুর চোখে সেটা লজ্জার মনে হলেও, অসম্মানের মনে হলেও এগিয়ে এসে সেইভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না কেউ।
{link}
কিন্তু এই দৃশ্যগুলিই মনে দাগ কাটে হাওড়ার এক যুবকের। এই দৃশ্য দেখে গত ২০০৮ সালে প্রথম এগিয়ে আসেন মনোরঞ্জন সরকার নামের বালির নিশ্চিন্দার এক প্রতিবন্ধী যুবক। রাস্তায় ছিঁড়ে পড়ে থাকা কাগজের বা প্লাস্টিকের ছোট ছোট জাতীয় পতাকা কুড়িয়ে এনে নিজের বাড়িতেই টিনের বাক্সে সংগ্রহের কাজ শুরু করেন তিনি। প্রথমে তাঁকে সকলে পাগল বলে খেপালেও গত ১৪ বছর ধরে এই কাজ করে এসে আজ তিনিই এখন সর্বত্র "ফ্ল্যাগ ম্যান" হিসেবে পরিচিত। এখনও পর্যন্ত বাড়ির টিনের বাক্সে তিনি সংগ্রহ করে ফেলেছেন প্রায় ৬০ হাজারের উপর কুড়িয়ে সংগ্রহ করা দেশের জাতীয় পতাকা। 'মায়ের প্রেরণা' সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর এই পড়ে থাকা অবহেলিত জাতীয় পতাকা রাস্তা থেকে সযত্নে তোলার কাজ তিনি করে থাকেন। এই মহৎ কাজে তাঁর সঙ্গে থাকেন বালির একদল যুবক। বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা জাতীয় পতাকা কুড়িয়ে সংগ্রহের মাধ্যমে ভারত মায়ের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার ছোট্ট প্রয়াস নিয়েছেন বালির নিশ্চিন্দার বাসিন্দা "ফ্ল্যাগ ম্যান"। তার এই পদক্ষেপ কে সাধুবাদ জানাচ্ছেন এলাকার সাধারন মানুষেরা। তাদের অধিকাংশেরই বক্তব্য, মনোরঞ্জন যা করছে তা সকলে ইচ্ছা থাকলেও করে উঠতে পারে না। দেশের জন্য মনোরঞ্জনকে এহেন কাজ করতে দেখে গর্ববোধ হয় স্থানীয় এলাকাবাসীর। তবে মনোরঞ্জনের এহেন পদক্ষেপ স্থানীয় বহু মানুষের বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাল্টাতেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা গ্রহণ করেছে বলে স্থানীয়দের মতামত।
{ads}