নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ উলুবেড়িয়া বানিতবলা ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে উদ্ধার ১৮ থেকে ২০ টি সদ্যজাত শিশুর দেহ ও ভ্রুন। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় এলাকার মানুষজনের মধ্যে। এতোগুলি সদ্যজাত শিশুর দেহ এখানে এলো কোথা থেকে সেই প্রশ্নে ও ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। এলাকার মানুষের দাবি আজ বেলায় যখন এলাকার বাচ্চারা ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে বোতল কুড়ুচ্ছিল, তখন তার প্লাষ্টিকের ভিতর মোড়া অবস্থায় এই সদ্যজাত শিশুদেহ ও ভ্রুন দেখতে পায়। তারপরেই খবর দেওয়া হয় উলুবেড়িয়া পুরসভা ও উলুবেড়িয়া থানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
{link}
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকার মানুষজন। এলাকাবাসীর অভিযোগ পুরসভার ময়লা ফেলার গাড়ি করে এই সমস্ত সদ্যজাত শিশুর দেহ ও ভ্রুন ফেলে যাওয়া হয়েছে। দুর্গন্ধে তারা এলাকায় টিকতে পারছেনা। অবিলম্বে এহেন অনৈতিক কাজকর্ম বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে এলাকার মানুষজন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা উলুবেড়িয়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ইমানুর রহমান বলেন আমরা নার্সিংহোম থেকে বর্জ গুলো নিয়ে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলি। কোন নার্সিংহোম বা স্টাফ এই কান্ড করেছে। আমরা দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
{link}
একটি শিশুকে পৃথিবীতে নিয়ে আসা মানে পৃথিবীতে একটি নতুন প্রান, একটু নতুন স্বপ্ন নিয়ে আসা”, বহু মানুষ ও লেখক সদ্যজাত শিশুকে ভগবানের রূপ বলেও বর্ননা করে থাকেন। কিন্তু সেই শিশুদেরই হত্যা করার একের পর এক ঘটনা উঠে আসছে হাওড়া শহর থেকে। তবে এবার একটি নয়, উদ্ধার ১৮ থেকে কুড়িটি দেহ। ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, মানুষের মনুষ্যত্ববোধ নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে মানবিকতা নিয়ে, স্বার্থের কারনে কি এতোটাই নৃশংস হয়ে উঠছে মানবজাতি। দুটি মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন তাদের সন্তান, সন্তান কি সত্যি কখনও অবাঞ্ছিত হয়? এতোগুলি ফুটফুটে প্রান বুঝতেই পারল না পৃথিবী কি, ভালোবাসা কি? এই পৃথিবীর আলো বাতাস, মায়া-মমতা, মাতৃস্নেহ সব কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের বিদায় নিতে বাধ্য করা হল এই পৃথিবী থেকে। শুধুমাত্র কিছু মানুষের নৃশংসতা ও স্বার্থের কারনে। আর অনুমান সাপেক্ষে বলা যায় তাদেরই অর্থের বিনিময়ে সাহায্য ও সমর্থন করে আসছে কিছু স্বাস্থ্য-সংস্থা। দোষীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি করছে সাধারন মানুষ।
.jpeg)
