Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 13/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

সংসার সামাল দিতে ডোম পদে আবেদন ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাস স্বর্নালীর

Loading... রাজ্য
সংসার সামাল দিতে ডোম পদে আবেদন ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাস স্বর্নালীর
#Howrah #Government job #Unemployment #NRS Hospital #West Bengal #India

এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন এবং টক্সিকোলজি বিভাগে ৮০০০ এরও বেশি পরীক্ষার্থি সহকারী (ডোম) পদে আবেদন করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ স্নাতকোত্তর, ২,২০০ স্নাতক এবং ১০০ জন ইঞ্জিনিয়ারও রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৮০০০ জনের মধ্যে ৮৪ নারীসহ মোট ৭৮৪ জনকে ১ আগস্ট লিখিত পরীক্ষার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।


এরই মধ্যে রয়েছেন হাওড়ার শিবপুরের মেধাবী ছাত্রী স্বর্ণালী সামন্ত। সংসার সামাল দিতে ডোম পদে চাকরি প্রার্থী সে। কাজের কোনো ছোট পদ হয়না।তাই এই চাকরি পেলে সসম্মানে তা করতে রাজি স্বর্ণালী। শিবপুরের অবিনাশ ব্যানার্জি লেনের বাসিন্দা তিনি। বছর পাঁচেক আগে শিবপুরের অনন্ত দেব চ্যাটার্জি লেনের বাসিন্দা দেবব্রত কর্মকারের সাথে ভালোবেসে বিয়ে হয় তার। একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে তাদের। তার স্বামী দেবব্রত পেশায় একজন উবের বাইক চালক। স্বর্ণালী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে সামান্য চাকরি করেন।কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ে তার।

{links}


ইতিহাসে স্নাতকে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া স্বর্ণালী সংসারের হাল ধরতে বিভিন্ন চাকরির জন্য খোঁজ করতে থাকেন।বিভিন্ন সরকারি চাকরির আবেদনও করেন।এন আর এস মেডিকেল কলেজে এসিস্ট্যান্ট ল্যাবটরিয়ান পদে  চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে সেখানেও আবেদন করেন তিনি।পরে  জানতে পারেন আসলে ডোম পদের জন্য আবেদন করেছেন তিনি।স্বর্ণালী জানান বাড়িতে রয়েছে তার অসুস্থ বাবা মা। এর পাশাপাশি রয়েছে তার মেয়েকে মানুষ করার চিন্তাও। ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয় স্বর্ণালীকে ।তাই চাকরির খুবই প্রয়োজন ।তাই ডোম পদে চাকরি করতে নিজেকে ছোট মনে করছেন না। পরিবারের সবাই এতে একমতও হয়েছেন তার সাথে।এই চাকরির জন্য পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে।এখন শুধু চাকরি পাবার আশায় দিন গুনছেন শিবপুরের স্বর্ণালী সামন্ত।


করোনার আগেও এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও ২০১৭ সালে শুধুমাত্র একটি সরকারি চাকরির জন্য উচ্চশিক্ষিত যুবক যুবতীরা এই কোন কাজে আপত্তি না দেখিয়েই আবেদন জানান। মালদহ মেডিকেল কলেজে ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য ৩০০জন আবেদন করেন। যাদের কাজের প্রোফাইল হল এনাটমি ক্লাসের ময়নাতদন্ত বিভাগে মৃতদেহ এবং অঙ্গগুলি পরিচালনা করা। চারজন আবেদনকারীর মধ্যে একজন হয় পিএইচডি করছেন অথবা ইতিমধ্যেই এমএফআইএল করেছেন। এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে বর্তমানে রজ্যের চাকরীর অবস্থা নিয়ে। রাজ্যের যুব সমাজের মধ্যে চাকরীর হাহাকার চলছে বহু বছর ধরেই। বর্তমানে যে টা আরও বৃহৎ আকার ধারন করেছে সেটাই বর্তমানে আরও দৃঢ়ভাবে প্রমানিত হচ্ছে এই ঘটনা থেকে। কেন এই অবস্থা? প্রশ্নের জবাব নেই প্রশাসনের কাছে।

সর্বশেষ আপডেট: