নিজস্ব সংবাদদাতাঃ অচেনা ভঙ্গীতে গান, সুরও অত্যন্ত চড়া, এহেন কীর্তন দেখতে কেউ অভ্যস্ত খুব একটা নয়, কারুর কীর্তন দেখে তা কীর্তন হচ্ছে নাকি হিন্দি সিনেমার নাগিন ড্যান্স তা বোঝার উপায় নেই। যেন কীর্তন নয় তার পরিবর্তে হচ্ছে অন্নকিছুই। সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এহেন বেশ কিছু কীর্তন। যা নিয়ে প্রতিবাদে সরব হলেন সর্বভারতীয় কৃত্তন সংগঠনের সদস্যরা। যেখানে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ভাবে কীর্তন করতে দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষকে। সাধারণ মানুষের কাছে সহজ সাবলীল এবং মনোরঞ্জন করে তোলার জন্য ধর্মীয় কথা নানান গান নৃত্যের মাধ্যমে পরিবেশিত হয়ে থাকার প্রথা বহুদিনের। দেশ-জাতি ভেদে তা উপস্থাপনাও ভিন্ন রকমের। তবে তা উপস্থাপিত করতে গিয়ে যদি মূল বিষয় গৌণ হয়ে নিজের আত্মকেন্দ্রিক প্রচার মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় তখনই দৃষ্টিকটু হয়ে ওঠে অন্যান্য ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে। রাজ্যের বিখ্যাত কীর্তন গায়িকা শান্তিপুরের অনুরাধা দাস গোস্বামী বলেন তিনি 7 বছর থেকে বর্তমান 26 বছর বয়স পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কীর্তন করে থাকেন।
{link}
বর্তমানে যেভাবে একটা অংশের মানুষকে কীর্তন করতে দেখা যাচ্ছে তাতে তার মতে এতে মূল হরিনাম প্রচার এর বদলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে তারা অন্য দিকে আকর্ষিত হয়ে উঠছেন, উপহাস্য হয়ে উঠছে ধর্ম। ক্ষয় হচ্ছে কীর্তন গানের ভাবমূর্তির। বিগত দিনে তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা এই নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। আগামীতেও সকল কীর্তন প্রেমি মানুষদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সজাগ এবং সতর্ক থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এহেন প্রদর্শনে যে গানের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে তা স্পষ্ট। কোথায় শ্রীচৈতন্যদেবের নিজের আরাধ্য দেবতাকে উৎসর্গ করে গাওয়া ভক্তিগীতি আর কোথায় বর্তমান সময়ের এই নাচ-গান। কোথাও গিয়ে অতিরিক্ত পরিচিত পাওয়ার লোভে বর্তমানে সমাজের একটা অংশের মানুষ নিজ সংস্কৃতি ধবংস করার খেলায় মেতে উঠেছেন। যে খেলা সত্যিই ভয়ানক।
