বুকে আতঙ্ক ধরিয়েছে চব্বিশে কেন্দ্রশাসনের সিংহাসন হারানোর ভয়। তার উপর ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে বিরোধী ঐক্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা। সেই বিরোধী ঐক্য ভাঙতে পাওয়ারকেই ঘুঁটি করছেন প্রধানমন্ত্রী! আজ, শনিবার পাওয়ারের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি। তার পরেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবে কি এবার নতুনভাবে ছক কষে খেলতে চলেছে বিজেপি? যদিও পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরাতেই পাওয়ারের বাড়িতে উজিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী।
প্রথমে এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার, পরে এম কে স্ট্যালিন সহ কয়েকজন বিজেপি-বিরোধী নেতার সঙ্গে বৈঠক শেষে পিকে বৈঠক করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে। কেবল রাহুল নন, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসেরই প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢরা এবং বেণুগোপাল। দিল্লির একটি সূত্রের খবর, পিকেকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রাহুল। তাতেই কাঁপন ধরেছে পদ্মের শিবিরে।
{link}
বিজেপিকে হঠাতে নয়া দল গড়ার একটা প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছিলেন পিকে। পরে কংগ্রেসে যোগের প্রস্তাবে আশার আলো দেখছেন তিনি। কারণ, দুর্বল হলেও ভারতের সমস্ত প্রদেশে সংগঠন রয়েছে কংগ্রেসের। আর, তাছাড়া দিল্লিতে বিজেপির বিকল্প কংগ্রসেই। তাই কংগ্রেসে যোগ দিলে পিকের পক্ষে বিজেপি হঠানো হবে অনায়াস।
কংগ্রেস সহ বাকি বিরোধীদের নিয়ে অ-বিজেপি জোট গড়ার একটা প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন পিকে। এই জোটের তরফেই আগামী বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারকে প্রার্থী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন পিকে। বর্ষীয়ান নেতা পাওয়ার প্রার্থী হলে কংগ্রেস তো বটেই বিজেপি বিরোধী সব দলের ভোটই যাবে পাওয়ারের পক্ষে। সেক্ষেত্রে পাওয়ারকে সামনে রেখে এককাট্টা হবেন বিরোধীরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী ঐক্য অঙ্কুরে বিনাশ করতেই পাওয়ারের সঙ্গে এদিন সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মিনিট পঞ্চাশের ওই বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি।
{link}
কিন্তু এখন থেকেই যে কেন্দ্রের রাজনীতিতে কূটনৈতিক চাল খেলতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি একথা স্পষ্ট। এখন শেষ পর্যন্ত যেভাবেই হোক সিংহাসন ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগোবে বিজেপি। এখন শেষ পর্যন্ত ২৪শের লড়াইয়ে তারা তাদের লক্ষ্যপূরনে সক্ষম হয় কি না তাই হবে দেখার বিষয়।
