নিজস্ব সংবাদদাতাঃ রাজ্যসভার সমস্ত মন্ত্রিত্বপদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর কি দলের সমস্ত পদও হারাতে চলেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়? আজ দুপুরে রাজ্যসভার মন্ত্রিত্বপদ থেকে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারন করার পরেই শুরু হয়েছিল এই বিষয়টিকে নিয়ে জল্পনা। কারন অভিষেক ব্যানার্জির তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠকের কথা পূর্বেই ঘোষনা করা হয়েছিল। অবশেষে জল্পনাই সত্যি হল। দলের সমস্ত পদ থেকে আপাতত সাসপেন্ড করা হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ৬ দিন পর মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারিত হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এবার শাসকদলের মহাসচিব, শৃঙ্খলা কমিটি-সহ সমস্ত পদ থেকেও তাঁকে সরানো হল। যতদিন তদন্ত চলবে, দলের তরফে তাঁকে সাসপেন্ড করা হল। নিজেকে তিনি নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে দল ফের সসম্মানে ফিরিয়ে নেবে তাঁকে। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা কথা জানালেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্থবাবুর ফাঁকা পদে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানানো হয়েছে সাংবাদিক সম্মেলনে।
{link}
কার্যত তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে মহাসচিব পদে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপর বেশ কিছু গুরুদায়িত্ব দিয়েছিলেন। এই পদ ছাড়াও ৪টি পদে ছিলেন পার্থবাবু। জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য, দলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র সম্পাদক, শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সদস্য, দলের জাতীয় সহ-সম্পাদক ছিলেন তিনি। সমস্ত পদ থেকে সত্তর বছরের তৃণমূল নেতাকে অপসারিত করা হল। এক কথায় বলা চলে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী খুঁটিকে আজ হারালো তৃণমূল কংগ্রেস।
বিরোধীদের তাক করে আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনেক দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পূর্বে এহেন দ্রুত পদক্ষেপ কোন রাজনৈতিক দল গ্রহন করেনি। এছাড়াও ইডির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই সাসপেনশন যে সম্পূর্ন দলের স্বার্থেই সেই কথা স্পষ্ট।

