নিজস্ব সংবাদদাতাঃ দেশের জাতীয় পাখি, চালচলন, রূপে গুনে সব দিক থেকেই সৌন্দর্যে তার জুড়ি মেলা ভার। চিড়িয়াখানা কিংবা সাফারিতে একবার সেই মুয়ূরের পেখম মেলা দেখতে পেলে নিজেদের ধন্য মনে করেন দর্শকেরা। কিন্তু এবার কোন এক অজানা রোগের প্রকোপে রাজ্যে একাধিক ময়ূরের মৃত্যু ঘটতে শুরু করেছে। গত সাত দিনে মহানন্দা ওয়ার্ল্ডলাইফ সেঞ্চুরির সাউথ পার্টে ছটি ময়ূরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। শুধু মহানন্দা ওয়াইল্ডলাইফে নয় বেঙ্গল সাফারি থেকেও এসেছে ময়ূর মৃত্যুর খবর। হঠাৎ করেই এভাবে ময়ূর মৃত্যুর খবর নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে বনদপ্তর থেকে শুরু করে পশু প্রেমিকেরা।
এই প্রসঙ্গে দার্জিলিং ওয়াইল্ডলাইফ ডিএফও সুরত্ন সেরপা জানিয়েছেন মহানন্দা ওয়াইল্ডলাইফ অভয়ারণ্যের সাউথ পার্টে গত সাত দিনে ছটি ময়ূরের মৃত্যু হয়েছে। কি কারনে ময়ূর গুলির মৃত্যু হচ্ছে তা যাচাই করার জন্য ময়ূর গুলির মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে বেঙ্গল সাফারি তে ময়নাতদন্তের জন্য। এবং বেঙ্গল সাফারি থেকে ফরেনসিক তদন্তের জন্য স্যাম্পল পাঠানো হয়েছে কলকাতায়। দার্জিলিং ওয়াইল্ডলাইফ ডিএফও সুরত্ন সেরপা জানিয়েছেন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই বোঝা যাবে না। তবে এখনো পর্যন্ত আশঙ্কা করা হচ্ছে এটি একটি ভাইরাল ডিজিস।
{link}
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি ধরা পড়ে ময়ূর মৃত্যুর কারণ রয়েছে ভাইরাল ডিজিস , তাহলে রয়েছে বিপত্তি । তার কারণ ময়ূর থেকে জঙ্গলের একাধিক পাখির হতে পারে এই ভাইরাল ডিজিস। ডিএফও সুরত্ন সেরপা জানিয়েছেন করোনা ভাইরাল ডিজিস কে শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার থেকে আটকানোর জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল লকডাউন। তবে জঙ্গলমহল এলাকায় পাখিদের মধ্যে লকডাউন ঘোষণা করা অসম্ভব। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভাইরাল ডিজিস হলে রয়েছে চিন্তার কারণ। যদিও যতক্ষন পর্যন্ত না রিপোর্ট আসছে এই সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা ভুল হবে।
{link}
তবুও পরিস্থিতির উপর নজর রেখে আগে থেকে যে সমস্ত ময়ূর গুলির মৃত্যু হয়েছে , কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে তাদের দেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, যাতে তা থেকে অন্য কোন পাখির শরীরে ছড়িয়ে না পড়ে এই ভাইরাল ডিজিস। তবে এখনো পর্যন্ত অনুমান করা হচ্ছে যদি ময়ূর গুলোর মৃত্যুর কারণ ভাইরাল ডিজিস হয়ে থাকে, তবুও এই ভাইরাল ডিজিস পাখি থেকে পাখির শরীরেই ছড়াতে পারে। অন্য কোন জীব জন্তুর শরীরে এর প্রভাব পড়বে না। ফলে সে ক্ষেত্রে খানিকটা স্বস্তি রয়েছে । কিন্তু সবশেষে কি কারনে একের পর এক ময়ূর মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছে সেই বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় রয়েছে বনদপ্তর, শীঘ্র এই সমস্যার কোন নির্দিষ্ট সমাধান না বের করতে পারলে তা বাস্তবিকভাবেই চিন্তার বিষয়।
