সামনেই ক্রমশ এগিয়ে আসছে পুরসভার ভোট। সেই ভোটের লড়াই বেশ কঠিন হতে চলেছে বলেই মতামত রাজ্যের একাংশের রাজনীতিবিদদের। তাই বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়াচ্ছে তৃণমূল। রাজ্যসভার সাংসদ তথা কংগ্রেস ছেড়ে আসা তৃণমূল নেতা সুস্মিতা দেব এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন। ২১ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। চলবে এ মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত।
{link}
কর্মসূচির সফল রূপায়ণের লক্ষ্যে স্টিয়ারি কমিটির সদস্যদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটির নেতৃত্ব দেবেন সুস্মিতা স্বয়ং। বাকি দুটির নেতৃত্বে থাকছেন স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক ত্রিপুরার নেতা সুবল ভৌমিক এবং আশিষলাল সিং। শহর এবং গঞ্জের জনবহুল এলাকায় স্থানীয় নেতাদের নিয়ে লাগাতার মিটিং মিছিল যেমন হবে, তেমনি চলমান যানবাহনেও চলবে প্রচার। বিজেপি সরকারের অগণতান্ত্রিক কাজকর্মের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি শোনানো হবে তৃণমূল নেত্রীর বাংলায় কাজের ফিরিস্তি।
{link}
২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচন হবে ত্রিপুরার। তার ঠিক পরের বছরই হবে লোকসভা নির্বাচন। লোকসভা ভোটে ত্রিপুরার একটি আসন কোনও দলের কাছেই ফ্যাক্টর নয় ঠিকই, তবে তৃণমূলের কাছে ত্রিপুরার গুরুত্ব অনেক। কারণ তৃণমূল যে তামাম ভারতে সংগঠন বিস্তারে নজর দিয়েছে, তাতে বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরাকে সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাছাড়া ত্রিপুরা পরে মেঘালয়েও শেকড় গাড়তে চেষ্টা করছে তৃণমূল। নজরে রয়েছে অসম সহ উত্তর পূর্বের ছোট ছোট রাজ্যগুলি। সেদিক থেকে দেখলে ত্রিপুরাই উত্তর পূর্বের গেট ওয়ে। তাই ত্রিপুরা দখল সম্ভব হলে অনায়াস হবে উত্তর পূর্বের অন্য রাজ্যগুলিতে থাবা বসানো। সেই কারণেই ত্রিপুরেশ্বরীর রাজ্য জয়ে মরিয়া তৃণমূল।
এছাড়াও ত্রিপুরায় জয়লাভ করতে পারলে রামধাক্কা না হলেও একটা জোরদার ধাক্কা খাবে কেন্দ্রের বিজেপি শিবির। সাথে সাথে অনেকটা জনপ্রিয়তাও বাড়বে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। যা মসৃণ করবে আসন চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পথ। পরিকল্পনা মাফিক এখন থেকেই বাস্তবিকভাবে লড়াইয়ে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিকল্পনা কতোটা সফল হবে? সেটাই হবে দেখার বিষয়।
