একসময় দলের অন্যতম শক্ত খুঁটি ছিলেন। কিন্তু তারপরেই একুশের বিধানসভার আগে দলবদলের ঢেউয়ে গা ভাসিয়ে যোগদান করেছিলেন বিপক্ষ শিবিরে। তারপর হয়েছে স্বপ্নভঙ্গ। শক্ত সেই খুঁটি নড়বড়ে অবস্থায় হলেও ফের ফিরতে চাইছেন ঘাসফুলে বলেই মিলেছে ইঙ্গিত। তবে কি এবার আসতে চলেছে সবুজ সংকেত? পুজোর আগেই তৃণমূলে ফেরানো হচ্ছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে! ঘাসফুল শিবিরের একটি সূত্রেই এ খবর মিলেছে। রাজীবের সঙ্গেই একই দিনে ঘাসফুল আঁকা ঝান্ডা হাতে তুলে নিতে পারেন দীপেন্দু বিশ্বাস এবং সোনালি গুহও। জোড়া ফুল শিবির সূত্রে খবর, বিধায়কদের পাশাপাশি এই তিনজনকে শিবিরে ফেরানো গেলে দুর্বল হয়ে পড়বে বিজেপি।
{link}
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙন শুরু হয়েছিল জোড়াফুল শিবিরে। রাজ্যে গেরুয়া নিশান উড়বে আঁচ করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ভিড়েছিলেন হাওয়া মোরগের দল। সেই সময় তৃণমূলের মুন্ডুপাত করেছেন তাঁদের অনেকেই। বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে বিজেপি। লক্ষ্যমাত্রা ২০০ আসনের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের দল। এর পরেই মোহভঙ্গ হয় দলবদলুদের। তাঁদের সিংহভাগই তলে তলে যোগাযোগ করতে শুরু করে দেন তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে। তার জেরে শুরু হয়েছে তৃণমূলে ফেরার পালা।
{link}
বিধায়কদের দলে ফেরানোর পাশাপাশি ফেরানো হতে পারে বিজেপিতে যাওয়া তৃণমূল নেতাদের। এঁদের মধ্যে প্রথমেই যে নামটি ঘোরাফেরা করছে তৃণমূলের অন্দরে, তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন তিনি। বিজেপিতে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বুকে নিয়ে তাঁকে কাঁদতেও দেখা গিয়েছিল সংবাদ মাধ্যমের দৌলতে। এসবের জন্যই তৃণমূলে রাজীবের জন্য রয়েছে একটি সফট কর্নার। তাই তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত একপ্রকার নিয়েই ফেলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। একদা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের ছায়াসঙ্গী তথা প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালি গুহকেও ফেরানো হতে পারে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। ফেরানো হতে পারে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব দীপেন্দু বিশ্বাসকেও। কবে তাঁরা হাতে তুলে নেন ঘাসফুল আঁকা পতাকা, এখন তাই দেখার। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, দলে ফিরলেও তার সেই পুরোনো সন্মান কি তারা আদৌ ফিরে পাবেন?
