ত্রিপুরায় বহুদিন ধরেই ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল, লক্ষ্য ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করা। কেমন চলছে তার প্রস্তুতি? এবার তাই প্রমান করার পালা। বেজে গেল ত্রিপুরা পুরভোটের বাদ্যি। এবার প্রমাণ করার পালা তৃণমূলের। আরও স্পষ্ট করে বললে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তার কাঁধেই ত্রিপুরার ভার। তাই ত্রিপুরার পুরসভা নির্বাচন অভিষেকের কাছে অগ্নিপরীক্ষা বই কি!
{link}
তৃতীয়বারের জন্য বাংলার কুর্সিতে বসে গোটা দেশে সংগঠন বিস্তারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর পূর্বের ছোটো ছোটো রাজ্যগুলির পাশাপাশি আরব সাগরের তীরের এই ছোটো রাজ্যটির প্রতিও শ্যেনদৃষ্টি হানে তৃণমূল। তার ফলও ফলেছে। উত্তর পূর্বের ত্রিপুরার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই গোয়ায়ও মজবুত সংগঠন গড়ে তুলে ফেলেছে তৃণমূল।
তবে বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরাই আপাতত পাখির চোখ তৃণমূলের। এর কারণ দুটি। এক, সামনের মাসেই রয়েছে ত্রিপুরা পুরসভা নির্বাচন। সেখানে নিজেদের শক্তি যাচাই করে নেওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া যাবে। আর দুই, ত্রিপুরায় শক্তি জাহির করতে পারলে উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যেও ক্ষমতা দখল হবে অনায়াস। তাই আপাতত ত্রিপুরায়ই শ্যেন দৃষ্টি তৃণমূলের।
{link}
ত্রিপুরার পুরসভা নির্বাচন অভিষেকের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গোটা দেশে তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারের গুরু দায়িত্ব তিনি স্বেচ্ছায় তুলে নিয়েছেন নিজের ঘাড়ে।
ইতিমধ্যেই অবশ্য অভিষেকের নেতৃত্বে ত্রিপুরায় জোরদার সংগঠন গড়ে তুলে ফেলেছেন তিনি। সে রাজ্যে বিজেপিও ভাঙছে প্রতিদিন। স্বাভাবিকভাবেই স্ফীত হচ্ছে তৃণমূল। তবে ভোটের বাক্সে তার কতটা প্রভাব পড়বে, তা দেখার। কারণ সম্পূর্ণ আনকোরা একটা দলের মিটিং-মিছিলে ভিড় হওয়া মানেই সেই দলের ক্ষমতায় চলে আসা নয়। কারণ ব্যাপক হইচই ফেললেও বছর কয়েক আগে বাংলায়ও ছাপ ফেলতে পারেনি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ। এমনকি একুশেও এই একই ছবি চোখে পড়েছে বিজেপির ক্ষেত্রেও। বহু মানুষ ও রাজনীতিবিদরা বিজেপির আসা সম্পর্কে সুনিশ্চিত থাকলেও কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। তাই ত্রিপুরায়ও আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কতটা ছাপ ফেলবে, তা কিন্তু বাস্তবিক ভাবেই এখন থেকে বলা শক্ত।

