নিজস্ব প্রতিনিধি: “ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমোঽস্তুতে॥“- মন্ত্রটি কিছু না হলেও একদিনের জন্য আপামর বাঙালির ঠোঁটস্থ থাকে। কারন এই দিনের আলাদা এক মাহাত্ম বর্তমান রয়েছে সকলের কাছেই। হাতে গোণা আর কয়েকদিন পরেই সরস্বতী পুজো। বিদ্যাদেবীর আরাধনায় ব্রতী হবেন সমস্ত বিদ্যালয় সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রছাত্রীরা। অথচ এহেন সময়েই অদৃশ্য ভাইরাসের দাপটে বন্ধ রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা আবহে এখনও খোলেনি স্কুল-কলেজের তালা। গত বছরও সরস্বতীপুজোর আগে স্কুল-কলেজ খোলেনি। স্বাভাবিকভাবেই সেবার সরস্বতীর আরাধনা হয়েছে নমো নমো করে। মার খেয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। এবার অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটাই অনুকূল। তবে স্কুল-কলেজ খোলেনি। যদিও পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। পনের দিনও বাকি নেই। অথচ এখনও একাধিক গোলায় সেভাবে বায়না হয়নি ঠাকুরের।
{link}
লকডাউনের বাজারে এবার ঠাকুর কম গড়েছেন শিল্পীরা। তাও সব ঠাকুর বিক্রি হবে কিনা, সংশয়ে তাঁরা। ছোট ছোট প্রতিমা গড়ে বিক্রি করেন অনেক শিল্পীই। কিন্তু করোনার কারনে আবারও মার খেয়েছে সরস্বতী পুজোর বাজার। কি হবে পরিস্থিতি তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ঠাকুর বিক্রি হবে কিনা, তা নিয়ে বেশ কিছুটা চিন্তায় রয়েছেন তাঁরাও।
{link}
টানা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তার পরেও কুমোরটুলি সহ রাজ্যের বিভিন্ন গোলায় কেউ বাঁধছেন খড়, কেউ মাখছেন মাটি। কেউবা ব্যস্ত মাটির প্রলেপ দিতে। কেউ আবার বাড়তি বিক্রির আশায় রং করতে শুরু করে দিয়েছেন প্রতিমা। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় শিল্পীরা। কিভাবে হবে সরস্বতী পুজো, আদৌ কোন বিধিনিষেধ থাকবে কি না, তার সমস্তটাই নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির উপর। শেষ পর্যন্ত কোন দিকে হাওয়া বাঁক নেয় সেটাই দেখার বিষয়। পলাশপ্রীয়ার আরাধনার সময় হয়ে এলো যে।
