বঙ্গের বুকে পাহাড় এখন অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হয়ে উঠেছে পদ্ম শিবিরের। সারা রাজ্যে সেইভাবে বিধানসভা নির্বাচনে দাঁত ফোঁটাতে না পারলেও উত্তরবঙ্গে বেশ মজবুত সাংগঠনিক ভীত গড়তে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। এবার সামনে পুরসভা নির্বাচনের লড়াই। সেই লড়াইতে বাম বধে শিলিগুড়িতে অশোকের শিষ্যকেই হাতিয়ার করছে বিজেপি! শিলিগুড়ি পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন সিপিএম ছেড়ে আসা শংকর ঘোষ। প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে আসা প্রাক্তন কাউন্সিলর নান্টু পালও। তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে।
শিলিগুড়ি পুরসভার রশি ছিল সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের হাতে। পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয় তৃণমূলের গৌতম দেবকে। এ নিয়ে তরজা হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। বুধবার শিলিগুড়ি পুরসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিজেপি। প্রার্থী তালিকায় শঙ্কর, নান্টুর পাশাপাশি রয়েছেন শালিনীও। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বিজেপির বাজি দলের সংখ্যালঘু নুরজাহান আনসারি।
{link}
পুরভোটে মুখোমুখি হচ্ছেন গুরু-শিষ্য অশোক-শংকর। অশোক বলেন, রাজনীতিতে কেউ গুরু-শিষ্য হয় না। রাজনীতির ময়দানে পৃথকভাবে লড়াই করবেন তাঁরা। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শংকর বলেন, এবার শিলিগুড়িতে অশোক মডেল ফেল করবে। জিরো পারসেন্ট চান্স রয়েছে। বিপুল ভোটে জয় পাবে বিজেপি-ই। তিনি বলেন, এখন বামেদের উত্থানের তো কোনও প্রশ্নই নেই। আগামী কয়েক দশক রাজ্য এবং কেন্দ্রে কোনও ভূমিকায়ই থাকবে না তারা। শিলিগুড়িতে এই প্রথম অ-তৃণমূল এবং অ-বিজেপি বোর্ড গঠন করবে। বিজেপিকে মানুষ আশীর্বাদ করে জিতিয়ে দেবেন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই। শিলিগুড়িকে মডেল সিটি করাই লক্ষ্য বিজেপির। নতুন বছরের ২২ জানুয়ারি শিলিগুড়ি, বিধাননগর, আসানসোল এবং চন্দননগর পুরনিগমের ভোট। ফল বের হবে ২৫ জানুয়ারি। মোট ওয়ার্ড ৪৭টি। যার মধ্যে নিজেদের গেরুয়া রং- কে ছড়িয়ে দিয়ে কর্পোরেশনকে গেরুয়া করে তুলতে মরিয়া বিজেপি।
{link}
এদিকে, ২ নম্বর ওয়ার্ডে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি নেতা প্রদীপ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি দু নম্বর ওয়ার্ডের টিকিট চেয়েছিলাম। দেওয়া হয়নি। আমি দু নম্বর ওয়ার্ডেরই টিকিট চাই। নয়তো আমি কাউকেই জিততে দেব না। অর্থাৎ ঠিক যেরকম ছবি দেখা গিয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা নিয়ে, এবারেও তার কিছুটা আঁচ দেখাই যাচ্ছে শিলিগুড়ির পুরসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেও। শেষ পর্যন্ত জয়ীর তকমা প্রাপ্তি হয় কি না, তাই দেখার বিষয়।
