করোনার প্রভাব ও আতঙ্ক যেন কেটেও কাটছে না। এবারেও সেই প্রভাব অব্যাহত রইল শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কল্পতরু উৎসবে। পালিত হবে নিয়মরক্ষার কল্পতরু অনুষ্ঠান। তবে করোনা আবহে এবারও সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না ভক্তরা বলে জানানো হয়েছে কতৃপক্ষের তরফ থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পুজো দেখানোর ব্যবস্থা করবেন রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ।
{link}
যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতি বিজড়িত কাশীপুর উদ্যানবাটিতে বেশ কিছুদিন বাস করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। সঙ্গে ছিলেন সারদা দেবী ও তাঁর কয়েকজন ভক্ত। আমৃত্যু ওই বাড়িতেই ছিলেন ঠাকুর। ১৮৮৬-র পয়লা জানুয়ারি ওই বাড়িরই একটি গাছের তলায় কল্পতরু হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ। ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমাদের চৈতন্য হোক।
ঠাকুরের প্রয়াণের পর থেকে প্রতি বছর পয়লা জানুয়ারি কল্পতরু উৎসব পালিত হয় কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। উৎসবে যোগ দেন লক্ষাধিক ভক্ত। শ্রীরামকৃষ্ণের আর্শীবাদ পেতে আগের রাত থেকে কাশীপুর উদ্যানবাটিতে ভিড় করেন ভক্তরা। কল্পতরু উৎসবের দিন সারাদিন ধরে চলে ঠাকুরের নাম-গান, পুজোপাঠ। দুপুরে হয় প্রসাদ বিলি। সন্ধ্যায় হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
{link}
করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালে প্রথমবার ভক্ত সাধারণের জন্য খোলা হয়নি উদ্যানবাটির দ্বার। একই কারণে দ্বার বন্ধ ছিল পরের বারও। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবার উদ্যানবাটি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভক্তরাও আশা করেছিলেন চাক্ষুষ করবেন কল্পতরু উৎসব। সেই আশা এইবারও সম্পূর্ন হয়ে উঠল না। ওমিক্রনের আতঙ্কে এবং ভক্তদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই জনসাধারনের জন্য এবারও খোলা হবে না উদ্যানবাটির দরজা। বন্ধ থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। কেবল হবে পুজোপাঠ। পালিত হবে যাবতীয় আচারও। পুজোর অনুষ্ঠান সোশ্যাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে বলে জানান কাশীপুর উদ্যানবাটি কর্তৃপক্ষ। এবারেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর থেকেই ভার্চুয়ালি পরমহংসদেবের এই আরাধনার সাক্ষি থেকে তার আশির্বাদ প্রার্থনা করতে হবে ভক্তকূলকে।
