শুভেন্দু-সুরজিৎ তরজা নিয়ে বর্তমানে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনৈতিক মহল। হাওড়া জেলা সভাপতি পদ থেকে সুরজিৎ সাহা কে সাসপেন্ড করে দেওয়ার পর কার্যত বাগযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে দুই শিবিরেই। হাওড়ায় তাদে দল থেকে বের করার পরেই এই সময়ের সুবিধা নিতে চাইছে শাসক শিবির। বিজেপি বধে সুরজিৎকেই অস্ত্র করছে হাওড়া তৃণমূল! জোড়াফুল শিবির সূত্রেই এ খবর মিলেছে। সুরজিৎও স্বীকার করেছেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। সুরজিৎকে হাতিয়ার করেই হাওড়া সদরে গেরুয়া গড়ে হানা দিতে চাইছেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারেরা।
{link}
দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করায় বিজেপি থেকে বহিষ্কার করা হয় হাওড়া সদর সভাপতি সুরজিৎ সাহাকে। আরএসএস থেকে উঠে এসেছিলেন তিনি। বিজেপি করছেন ২৮ বছর ধরে। জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন। হাওড়া যুব সভাপতিও ছিলেন। হয়েছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্যও। এহেন সুরজিৎ হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা রথীন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুরনির্বাচনের জন্য গঠিত কমিটিতে কাজ করতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। শুভেন্দু অধিকারির অঙ্গুলি হেলনে তৃণমূল থেকে আসা লোকেরাই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। এর পরেই বুধবার বিজেপি বহিষ্কার করে তাঁকে।
সুরজিৎকে বহিষ্কার করতেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন তৃণমূল নেতৃত্ব। দক্ষ সংগঠককে দলে টানার মরিয়া চেষ্টাও তাঁরা শুরু করে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। বাম জমানায় যে সুরজিৎ দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছিলেন, তিনি যে দলের সম্পদ, তা বুঝতে দেরি হয়নি তৃণমূল নেতৃত্বের। সেই কারণেই সুরজিৎকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সুরজিৎ বলেন, আইপ্যাকের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তৃণমূলের তরফেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
{link}
ডিসেম্বরের ১৯ তারিখে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন। তাই দক্ষ সংগঠক সুরজিৎকে দলে পেতে মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব। সুরজিৎ তৃণমূলে যোগ দেবেন বলে এখনও স্থির করেননি। তবে তিনি তৃণমূলে যোগ দিলে হাওড়ায় গেরুয়া শিবিরের সবিশেষ ক্ষতি হবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। কারন সুরজিৎ হাওড়ায় বহুদিন ধরে দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, দলের দুর্বল যায়গাগুলিও তিনি ভালো মতোই জানেন। এতএব তিনি যদি সত্যিই তৃণমূলে যোগদান করলে তা হাওড়া বিজেপির জন্য বাস্তবিকভাবেই চিন্তার বিষয়, অনেকটাই চিন্তার বিষয়।
