আসছে শুক্রবারেই বিশ্বকর্মা পুজো। ফি বছর একই দিনে হয় দেবশিল্পীর আরাধনা। প্রথা মেনে মূলত কারখানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পালন করা হয় এই দেবতার পুজো। হিন্দুদের অন্য সব দেবতার পুজো প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হয়। তবে বিশ্বকর্মা পুজো হয় ১৭ই সেপ্টেম্বর। কিন্তু কেন ফি বছর একই তারিখে পুজো হয় বিশ্বকর্মার?
বিশ্বকর্মা হলেন শিল্পের দেবতা। হিন্দুদের বিশ্বাস, স্বর্গ নির্মাণ করেছিলেন তিনিই। তাঁর আশীর্বাদেই শিল্পীরা নির্মাণ করেন বিমান কিংবা ব্রিজ, কল-কারখানা কিংবা যন্ত্রপাতি। শাস্ত্র মতে, বিশ্বকর্মার জ্ঞান অগাধ। ঋগ্বেদে বিশ্বকর্মাকে সর্বদর্শী ও সর্বজ্ঞ বলা হয়েছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, তিনি ভক্ত কল্পতরু। ভক্তি সহকারে তাঁর আরাধনা করলে মানুষ লাভ করে কারিগরি বিদ্যা। উন্নত ভবিষ্যৎ, কাজের নিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রে সাফল্য এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও বহু মানুষ আরাধনা করেন দেবশিল্পীর। সেই কারণেই কলকারখানা থেকে শিল্পস্থান সর্বত্রই ঘটা করে পুজো হয় বিশ্বকর্মার।
{link}
বিশ্বকর্মার চার হাত। বাহন হাতি। কোথাও কোথাও তাঁর বাহন ঘোড়াও। তবে বিশ্বকর্মার সেই রূপের পুজো সর্বত্র হয় না। কোথাও তিনি তারুণ্যের প্রতীক। কোথাও আবার ‘বৃদ্ধ’ বিশ্বকর্মার পুজো হয়।
তবে যে রূপেই দেবশিল্পীর আরাধনা করা হোক না কেন, ফি বছর পুজো হয় ১৭ই সেপ্টেম্বর। দু এক বছর অবশ্য পুজো হয় ১৮ তারিখে। তবে সে বড় বিরল ঘটনা।
কী কারণে একই দিনে পুজো হয় বিশ্বকর্মার? আসলে হিন্দুদের সব দেবতার পুজো হয় চন্দ্রের গতিবিধি মেনে। কিন্তু বিশ্বকর্মার পুজো হয় সূর্যের গতিপ্রকৃতির ওপর। সূর্য যখন সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে গমন করে, তখন হয় উত্তরায়ন। এই সময় দেবতারা নিদ্রা থেকে জেগে ওঠেন বলে বিশ্বাস। তাই এই দিনটিতে পুজো হয় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার।
