Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 09/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

১২ই জুলাই, সাগর ব্লকের চৌরঙ্গী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে পালিত জল বাঁচাও দিবস

Loading... রাজ্য
১২ই জুলাই, সাগর ব্লকের চৌরঙ্গী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে পালিত জল বাঁচাও দিবস
#news #Water #save water #12th July #Mamata Banerjee #Government of West Bengal #Sagar #South 24 Paragana #West Bengal #India #সংবাদ

সুদেষ্ণা মন্ডল , দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জল বাঁচান, জীবন বাঁচান। সারা বিশ্বে প্রতি বছর ২২ মার্চ দিনটি বিশ্ব জল দিবস হিসাবে পালন করা হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঘোষণা অনুযায়ী গত কয়েক বছর ধরে ১২ জুলাই দিনটি রাজ্যে “জল সংরক্ষণ দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। এই উদ্যোগের কথা মাথায় রেখে ১২ই জুলাই পশ্চিমবঙ্গের ভূগর্ভস্থ পানীয় জল অপচয় রোধে জনসচেতনতার লক্ষ্যে সাগর ব্লকের চৌরঙ্গী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জল বাঁচাও দিবস। ভূগর্ভস্থ জল অদৃশ্য কে দৃশ্য মান করা এই থিমটিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সাগরের চৌরঙ্গী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে "জল সংরক্ষণ করো,জল ধরো, জল অপচয় বন্ধ করো" এই স্লোগানের মাধ্যমে ১২ মার্চ পালিত হয়েছে জল সংরক্ষন দিবস।

{link}
সকল সচেতন মানুষই এই বিষয়ে অবগত যে, সেচের জন্য ব্যবহৃত সমস্ত জলের প্রায় ৪০ % পরিমান জল জলজ থেকে আসে। এছাড়াও, পৃথিবীর প্রায় সব তরল স্বাদু জলই ভূগর্ভস্থ জল। জল জীবনের জন্য অপরিহার্য, জল ছাড়া জীবজগতে কেউ বেঁচে থাকতে পারবে না। একটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে ৬০% পর্যন্ত জল। সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য জলের প্রয়োজন।তাই জল না থাকলে পৃথিবীতে জীবন থাকত না। অতএব, পৃথিবীতে জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ফলে জল সংকট দেখা দেয়। বন্যা, খরা এবং জল দূষণের কারণে গাছপালা, মাটি, নদী এবং হ্রদ অবনতিশীল। জল  সংরক্ষন দিবস পালিত হয় বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বার্তা বিতরণ করে, বিশুদ্ধ জলের গুরুত্ব এবং রক্ষণশীল ব্যবস্থা, ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে শিক্ষামূলক সামাজিক সচেতনতা সম্পর্কে সকলকে অবগত করা হয়, যা জল চক্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

এবারের অর্থাৎ ২০২২ সালের জল  সংরক্ষণ দিবসের থিম হল “ভূগর্ভস্থ জল: অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করা”। এদিন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তাপস মণ্ডল বলেন, দিন দিন জল সংকট তীব্রতর হচ্ছে সারা পৃথিবী জুড়ে । ভারতের ২১ টি শহরে পানীয় জলের অভাব ভীষন ভাবে বেড়ে চলেছে। মাটির নীচে জলস্তর নেমে যাচ্ছে। চড়া দামে এই গরমে জল কিনতে হচ্ছে। দু'দিন পরে হয়ত তাও মিলবে না।তাই জল একদম অপচয় করবেন না।যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ব্যবহার করুন।চাষের কাজে ভূপৃষ্ঠের জল কাজে লাগান।মাটির তলার জল শুধু পানীয় হিসেবে তুলতে হবে। এই ভান্ডার খুব সীমিত। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে পাওয়া যায় যে জল তার অধিকাংশই পানের উপযুক্ত নয়। মোট জলের ৩ ভাগ মাত্র মিষ্টি জল। তার তিনের চার অংশ আবার বরফ।সুতরাং জল সংরক্ষণের জন্য সকলকেই ভাবতে হবে। এছাড়াও পৃথিবীতে ১৮ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে দূষিত জল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে। গ্রামীণ এলাকায় শতকরা ৬০-৬৫ ভাগ রোগের কারণই অপর্যাপ্ত ও দূষিত জলের ব্যবহার। বিদ্যালয়ে র ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তাপস মণ্ডল বলেন পরিবেশের মধ্যে যতগুলি উপাদান আছে তার মধ্যে জল অন্যতম উপাদান। মানুষ তথা সকল জীব, উদ্ভিদ ইত্যাদির জীবন রক্ষায় জলের অপরিসীম গুরুত্বের জন্যই জলের অপর নাম জীবন! মানুষের অসচেতনার জন্য সেই জীবন আজ মহাসংকটে! 

{link}

পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর একভাগ স্থল। তার মানে কিন্তু এই নয় যে সারা পৃথিবীতে পানীয় জলের বিপুল সম্ভার। বরং উল্টোটাই সত্যি। পৃথিবীতে জলের অভাব নেই। কিন্তু মিষ্টি জল অর্থাৎ পানীয় জলের অভাব আছে। মিষ্টি বা পানীয় জলের একমাত্র উৎস বৃষ্টি! অবুঝ মানুষের কার্যকলাপে সেই বৃষ্টি খেলা দেখাতে শুরু করেছে! জল অপচয় এবং রক্ষা করার দায়িত্ব এড়িয়ে মানবজাতি নিজের বিপদ নিজেই ডেকে এনেছে! তাই এই দিনটির মধ্য দিয়ে সকল মানবজাতির উদ্দ্যেশে একটি বার্তাই প্রচার করা হয়। জল বাঁচান, পরিবেশ বাঁচান, নিজে বাঁচুন এবং অন্যদের বাঁচতে দিন.....

সর্বশেষ আপডেট: