বাঙালিবাড়িতে বিয়ে মানেই একটা বৃহৎ হইহুল্লোড় ও বহু মানুষের এক আনন্দসমাগম। কিন্ত বিয়ের এই আনন্দ সমাগমেই এখন প্রভাব বিস্তার করেছে করোনা মহামারী। বিয়ের নিয়মে প্রবেশ করেছে করোনা বিধিনিষেধও। হবে শাস্ত্রমতে, তবে তা চাক্ষুষ করতে পারবেন মাত্র ১০০ জন। বিয়ে দেখতে হলে বাকিদের যোগ দিতে হবে গুগুল মিটে। বিয়ে তো হল! খাওয়া-দাওয়া? তারও ব্যবস্থা করেছেন পূর্ব বর্ধমানের সন্দীপন ও অদিতির পরিবার। বিয়ের পর্ব শেষ হওয়ার আগেই খাবার সরবরাহকারী সংস্থার তরফে খাবার পৌঁছে যাবে বাড়িতে। অভিনব এই বিয়ে দেখা যাবে চলতি মাসের ২৪ তারিখে। নিজেদের বিয়ে এহেন অভিনব উদ্যোগ গ্রহন করেছেন এক বর-বধূ।
পূর্ব বর্ধমানের সন্দীপন সরকারের সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে অদিতি দাসের। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সব মিলিয়ে পরিচয়ের বৃত্তটা দু তরফেই বেশ বড়। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতিতে সরকারি নিয়ম মেনে ১০০ জনের বেশি মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো যায় না। সেই কারণেই পাত্রপাত্রী উদ্ভাবন করেন অভিনব উপায়। সিদ্ধান্ত হয়, বিয়েতে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকবেন ১০০ জন। বাকিরা চাইলে বিয়ে দেখবেন গুগুল মিটে। খাবার সরবরাহকারী সংস্থা নিমন্ত্রিতদের বাড়িতে পৌঁছে দেবেন খাবার। প্রথম প্রথম অদ্ভুত ঠেকলেও, অভিনব কনসেপ্ট, মানছেন সকলেই।
{link}
সন্দীপন-অদিতির বিয়ের পরতে পরতে রয়েছে অভিনবত্ব। জামাকাপড়ের পাশাপাশি তত্ত্বে যাবে মাস্ক, স্যানিটাইজার মায় গল্পের বইও। ইন্টিরিয়র ডিজাইনের গাছও যাবে। আর যাবে মারণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্র। গাড়ি নয়, পরিবেশ বাঁচাতে বর যাবেন সাইকেলে। সাইকেলে যাঁরা বিয়ে বাড়িতে যাবেন, তাঁদের জন্যও থাকছে বিশেষ উপহার। অভিনব ভাবনার নেপথ্যে রয়েছে সন্দীপনের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। কিছুদিন আগেই করোনা সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পাত্র স্বয়ং। তার পরেই অভিনব ভাবনার জন্ম।
করোনা আবহে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভার্চুয়ালি হচ্ছে পড়াশোনা। এছাড়াও অফিসের মিটিং সহ একাধিক কাজে ব্যাবহৃত হয়েছে গুগল মিট। দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রীপুজোও দেখা গিয়েছে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে বিয়েও। এটাও হবে, সেটাও কি আগে ভেবেছিল মানুষ!
