নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বিশ্ব আদিবাসী দিবসেই আদিবাসী নেতাকে চড় মেরে বিতর্কে তৃণমূল কাউন্সিলর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূল সমর্থক ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে মারপিট বেঁধে যায়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। নিজেদের নেতার উপর আক্রমণ মেনে নিতে পারেননি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। প্রতিবাদে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ভাংচুর চালায় তারা বলে অভিযোগ। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির তরফ থেকে। সব মিলিয়ে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত অশোকনগর। বসানো হয়েছে পুলিশি পিকেট। আদিবাসীদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূলেরই প্রাক্তন বিধায়ক।
{link}
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আদিবাসীদের একটি মিছিল চলাকালীনই ঘটে ঘটনাটি। মিছিল থেকে আওয়াজ ওঠে আদিবাসীদের অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে রাজ্য সরকার। পাশপাশি রাজ্য সরকারের নেতা নেত্রীদের বিরুদ্ধেও ওঠে স্লোগান। এর পরেই আদিবাসী নেতার মাইক কেড়ে নিয়ে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে খোদ তৃণমূলের অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সাহার বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলরের অনুগামীরাও মারধর করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বেশ কিছু মানুষকে। ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অশোকনগরের বাইগাছি এলাকা। পাল্টা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা কাউন্সিলর সহ তার অনুগামীদের মারধর করে বলেও অভিযোগ। ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
{link}
এই ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলের পাশেই থাকা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে হামলা চালায় উত্তেজিত আদিবাসীরা- ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় তৃণমূলের ফ্লেক্স, ফেস্টুন,দলীয় পতাকা। তবে এই ঘটনায় কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। তবে আদিবাসী নেতাকে মারধরে অভিযুক্ত কাউন্সিলর মুখ না খুললেও আদিবাসীদের মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূলেরই অশোকনগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমানের অশোকনগর-কল্যানগড় পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ধীমান রায়। তবে গোটা ঘটনায় উত্তপ্ত অশোকনগর। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় বসানো হয়েছে পুলিশি পিকেট- রয়েছে র্যা ফ। দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে আদিবাসীরা।
