কয়েক দিন আগে লকডাউন ওঠার পরেই আমরা সুরার দোকানের পিছনের লম্বা লাইন দেখেছিলাম সুরাপ্রেমীদের। একটা বোতল পাওয়ার জন্য চাতকের ন্যায় বসেছিলেন প্রত্যেকেই। এহেন এক দুই বোতল নয়, একেবারে ১২ বোতল মদ সাবাড় করে দিল ইঁদুরের দল! গনেশ দেবের বাহন দের কোনও পার্টি ছিল কি না, তা অবশ্য কতৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়নি। তবে মুষিককুলের কীর্তিতে হতবাক মদের দোকানের মালিক, এটাও হতে পারে!
{link}
ঘটনাটি তবে খুলেই বলা যাক। এতদিন জানা ছিল কেবল মানুষই পার্টি করে। পার্টিতে গিয়ে মদ্যপান করে ফূর্তির মেজাজ সপ্তমে চড়াতে। হাতিরা মহুয়া ফুল খায় মত্ত হতে। কিন্তু ইঁদুরের দল মদ খায়, এতদিন বোধকরি তা জানতেন না তামিলনাড়ুর কেউ। এবার জানলেন। হ্যাঁ, ১২ বোতল মদ দোকান থেকে হাওয়া হয়ে যেতেই! তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার গুদালুর ওই দোকানটি বন্ধ ছিল দিন কয়েক। পরে দোকানের তালা খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ দোকানের কর্মচারীদের। তাঁরা দেখেন, ১২টি মদের বোতল এক্কেবারে খালি। বোতল পড়ে রয়েছে উল্টে। পাশেই ছিপি খোলা। ছিপির গায়ে ইঁদুরের দাঁতের দাগ। কর্মচারীরা সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন দোকান মালিককে। তিনি তো দেখে থ। খবর পেয়ে আসেন টিএএসএমএসি-র আধিকারিকরা। তাঁরা গিয়েও ইঁদুরের উপস্থিতি টের পান। বোতলের ছিপি পরীক্ষা করেও তাঁরা নিশ্চিত হন, মদ্যপান করেছে ইঁদুরই।
এদিকে সব দেখে শুনে দোকান মালিকের তো মাথায় হাত। কারণ প্রতি বোতল মদের দাম ছিল ১,৫০০ টাকা। এরকম দামেরই ১২ বোতল মদ সাবাড় করে দিয়েছে গণেশের বাহনকুল। বিহারে মদ্যপান নিষিদ্ধ হওয়ার পর ৯ লক্ষ লিটার মদ বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। শোনা যায়, সেই মদেরও সিংহভাগ গিয়েছিল ইঁদুরের পেটে। ২০১৮ সালেও বাজেয়াপ্ত হাজার লিটার মদ ইঁদুর খেয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ। চলতি বছরের মার্চ মাসেও হরিয়ানা পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা ২৯ হাজার লিটার মদও পান করেছিল মুষিককুল। তবে কোনও ক্ষেত্রেই রাস্তাঘাটে মাতলামো করতে দেখা যায়নি কোনও ইঁদুরকেই! বলি, হলটা কী!
{link}
মানে আবার এমনি ওমনি নয়, অ্যারোস্টোকেট ইঁদুর, চুরিও করে আবার ধরাও পড়েনা, মদ খাও আবার মাতলামিও করে না? আচ্ছা তাদের নেশা করে বাড়ি ফেরার পরপর সেখানেও ঝামেলা ট্যামেলা হয় নাকি? বলা যায়না, আবার হতেও তো পারে… সে যাই হোক, এখন তারা মনের আনন্দে সুরাপান করে দিন কাটাচ্ছে। অবশেষে সুরাপ্রেমী মানুষদের একখানা বন্ধু জুটলো বটে।
