একসময় লকডাউন না হওয়া সত্বেও মানুষের মনে এতোটাই ভয় ধরেছিল যে মানুষ নিজেই আর বিশেষ প্রয়োজন ব্যাতিত ঘরের বাইরে বের হচ্ছিল না। সেই সময়ে দেশে করোনার ছবিটাও ছিল ভয়াবহ। খবর ছিল শুধুই আতঙ্কের। এখন কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হয়েছে করোনা পরিস্থিতি। কিন্তু তার পরেই গা-ছাড়া মনোভাব দেখা গিয়েছে রাজ্যের সিংহভাগ বাসিন্দার। এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, করোনার তৃতীয় ঢেউ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এতএম সময় থাকতে বেপরোয়া নয়, সাবধান হয়ে উঠুন!
{link}
চিনের উহান প্রদেশে ২০১৯এ প্রথম দেখা মেলে করোনা ভাইরাসের। সেখান থেকে মারণ এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে মৃত্যুমিছিল নামে বিশ্বজুড়ে। সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে ভারতেও। ঘোষিত হয় লকডাউন। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ে চলতি বছর। ফের একবার মৃত্যুমিছিল প্রত্যক্ষ করে গোটা বিশ্ব। মারণ ভাইরাসের আগ্রাসনে ফের মৃত্যু হয় কয়েক লক্ষ মানুষের। করোনার করাল গ্রাস থেকে বিশ্ববাসীকে বাঁচাতে প্রতিষেধক তৈরি করে একাধিক দেশ। তারপরেও অব্যাহত মৃত্যুমিছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্বিক টিকাকরণেই মিলবে সাফল্য। যদিও তা শেষ করতে হবে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগেই।
প্রশ্ন হল, কবে আছড়ে পড়বে করোনার তৃতীয় ঢেউ? বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে ওই ঢেউ। সেটি আরও মারাত্মক হতে পারে। এইমস প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, আনলক প্রক্রিয়া শুরু হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ফের করোনাবিধি নিয়ে গা-ছাড়া মনোভাব দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের থেকে আমরা শিক্ষা নিইনি। ফের ভিড়, জমায়েত শুরু হয়েছে। ফের সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়বে। আগামী ছয় থেকে আট সপ্তাহ বা তার পরেই সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। পুরোটাই নির্ভর করছে সাধারণ মানুষ কতটা করোনা বিধি মেনে চলছেন এবং জমায়েত এড়িয়ে চলছেন তার ওপর।
{link}
এতএব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পূর্বের সব কিছু ভুলে বিধিনিষেধ না মেনে নিজেদের কে আবারও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবেন না। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝে অতিরিক্ত অসচেতনতাও আজকের এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের পিছনে একটা বড়ো কারন। একজনের অসচেতনতা যেমন কাড়তে পারে বহু মানুষের প্রান তেমনই একজনের সচেতনতায় রক্ষাও পাবে বহু মানুষের প্রান। সবটাই আপনার, আপনাদের উপর।
