Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 13/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

আত্মহত্যা নয়, কাঁথিতে অবৈধ সম্পর্কের জেরে গৃহবধূকে ধর্ষন করে খুন করেছিলেন দেওর

Loading... রাজ্য
আত্মহত্যা নয়, কাঁথিতে অবৈধ সম্পর্কের জেরে গৃহবধূকে ধর্ষন করে খুন করেছিলেন দেওর
#news #extramarital affairs #housewife #murder #brother in law #rape #East Medinipur #West Bengal #India #সংবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ গৃহবধুর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ দিন পর রোমাঞ্চকর তথ্য উদঘাটন করলো কাঁথি থানার পুলিশ। আত্মঘাতী নয় ধর্ষণ করার পর খুন করা হয়েছে গৃহবধুকে এমনটাই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত বধূর কলেজ পড়ুয়া দেওরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বধুর সঙ্গে দেওরের অবৈধ সম্পর্কের কারণে এমন ঘটনা বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি থানায় এড়াফতেপুর গ্রামে। কাঁথি থানার পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্ত দেওরের নাম রহমত আলি শাহা। শনিবার অভিযুক্তকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তার জামিন নাকচ করে ৫  দিনের পুলিশি হেফাজতে নির্দেশ দেন। গ্রেফতার দেওর রহমত আলি শাহা কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কাঁথি থানার পুলিশ। যদিও মৃত ওই বধুর ময়নাতদন্ত কাঁথি মহাকুমা হাসপাতাল থেকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।


সূত্রের খবর, গত ১০ ই আগস্ট সকালে ওই বধুর বাড়ি থেকে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগানো অবস্থায় মুসলেমা বিবি (২২) ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে এটা আত্মহত্যা বলে মনে হলেও পরে ধর্ষণ পর খুন বলে উঠে আসে।  পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাঁথি মহাকুমা হাসপাতালে পাঠায়। যদিও বধুর মৃতদেহ কাঁথি মহাকুমা হাসপাতাল থেকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মৃতবধূর বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ তুলে সরব হন। মৃত বধূর দাদা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এগরায় বাসিন্দা ওয়াজেত আলি খান খুনের গত ১২ ই আগষ্ট কাঁথি থানার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে কাঁথি থানার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকেরা।

{link}
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে উঠে আসে একের পর এক রোমাঞ্চকর কাহিনী। মৃত বধুর স্বামী কর্মসূত্রে দুবাইতে থাকতেন। এদিকে দেওরের নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এরপর ওই দেওর সহ তার পরিবারের সদস্যরা ওই বধূর বাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন। ওই বধূও দেড় বছরের কন্যাকে নিয়ে একটি রুমে থাকলেও, বাকি একটি রুমে দেওর ও তার বাকি পরিবারের সদস্যরা থাকতো। স্বামীর অবর্তমানে দেওরের সঙ্গে প্রেম সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই বধূর বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে বৌদির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো দেওর। সাম্প্রতিক কয়েক মাস আগে ওই বধুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার সময় ঘটনাটি নজরে আসে শ্বাশুড়ির। তারপর থেকেই দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে দুবাই থেকে বাড়িতে উপস্থিত হন বধূর স্বামী। যদিও পুলিশের কাছে ওই বধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার অভিযুক্ত দেওর বলে সূত্রের খবর। এই মামলা তদন্ত করছেন কাঁথি থানার পুলিশ অফিসার মিহির সাহু কাঁথি আদালত থেকে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। যদিও পুলিশের কাছে এখনোও পর্যন্ত ময়নাতদন্তে রিপোর্ট মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এসে পৌঁছায়নি। তদন্তের রিপোর্ট এলেই তা পরিষ্কার হবে। 


কাঁথি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ সাহা বলেন " অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঠিক কি কারনে এমন ঘটনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্তের কারণে বেশি কিছু তথ্য জানাতে রাজি হননি তিনি "। ধৃত দেওর রহমত আলি শাহা বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি ৩০২  (খুন),  ৩৭৬ ( ধর্ষণ)  ও ১২০(বি) ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

সর্বশেষ আপডেট: