গত কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা ক্রমাগত বৃষ্টির জেরে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে গঙ্গা নদীতে। আর তার জেরে শনিবার দুপুর থেকে ভয়াবহ নদী ভাঙন শুরু হয়েছে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্লকের কুলিয়ারচর এলাকাতে।
শনিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই ভাঙনে এক ঘণ্টার মধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে গ্রামের প্রায় ১০০ মিটার চাষের জমি। স্থানীয় সূত্রে খবর এই ভাঙন এখন চলছে মেঘনাথ মন্ডল পাড়া এলাকাতে। তবে রাতের দিকে আশেপাশের আরও কিছু এলাকাতে ভাঙন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।
আজ ভাঙন শুরুর এক ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গেছে বলছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন যে দ্রুততায় নদী ভাঙন চলছে তাতে আজ রাতের মধ্যেই আরও কয়েকশ মিটার জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।
{links}
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- এই মুহূর্তে নদী ভাঙন যেখানে চলছে তার থেকে মাত্র ১০ মিটার দূরে প্রায় ২০০ পরিবারের বাস। তার ফলে দুপুর থেকে গ্রামবাসীরা নিজেদের বাড়িঘর ভেঙে যতটুকু জিনিস পাওয়া যায় তা নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন।
যে সমস্ত গ্রামবাসীরা নদীর তীরে পাট চাষ করেছিলেন তারাও ইতিমধ্যে পাট কেটে জমি থেকে সরানোর কাজ শুরু করেছেন।
এই গঙ্গাভাগনের জেরে প্রতি বছরই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলা। একটার পর একটা গ্রাম সহ বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি চলে যায় গঙ্গার ঘর্ভে।গৃহহারা হন মানুষ হাজার হাজার চাষি হারান তাদের চাষযোগ্য জমি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এমন ভয়ঙ্কর সমস্যা চলতে থাকলেও পাকাপাকি ভাবে গঙ্গাভাঙ্গন রোধে তেমন কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। সমস্যা যখন ঘবির হয় তখন সাময়িক ভাবে কিছু কাজ হয় বটে কিন্তু পাকাপাকি ভাবে আজঅবধি ব্যাবস্থা নেওয়া হল না। প্রশ্ন হচ্ছে এই খতিগ্রস্ত দুই জেলা গঙ্গার পারে বসবাস কারি মানুষের আতঙ্ক কাটবে কবে?
