রাজ্যে দলবদল মানেই এখন রাজনৈতিক মহল এবং তার পাশাপাশি রাজ্যবাসীর কাছে তা গা সওয়া হয়ে উঠেছে। যেন, এ আর নতুন কি! রোজই তো হচ্ছে। কিন্তু এবার এর সাথে জড়িয়ে গেছে পেটুক বাঙালির আহারের সূত্র। ফের লুচি-আলুর দমের গল্প! তার জেরে আবারও আকাশে বাতাসে ছড়াচ্ছে দলবদলের জল্পনা। ঘটনার কেন্দ্রে সেই সব্যসাচী দত্তের বাড়ির লক্ষ্মীপুজো। তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন বিজেপির তারকা নেত্রী। তার পরেই দানা বাঁধছে ওই নেত্রীর তৃণমূলে যোগদানের গুঞ্জন!
{link}
ফি বছর ঘটা করে লক্ষ্মীপুজো হয় বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে। পুজোয় আসেন রাজ্যনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে বিনোদন দুনিয়ার কুশীলবরা। প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় লুচি-আলুর দম। সব্যসাচী দত্ত যখন বিধাননগর পুরসভার মেয়র ছিলেন তখন তিনি ছিলেন তৃণমূলে। ওই সময় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ভিড়েছিলেন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক মুকুল রায়। একবার লক্ষ্মীপুজোর দিন তিনি গিয়েছিলেন সব্যসাচীর বাড়িতে। খেয়েছিলেন লুচি-আলুর দম। মুকুলের এই ‘দৌত্যে’ অশনি সংকেত দেখেছিল জোড়াফুল শিবির। মুকুলের সেই দৌত্য যে ব্যর্থ হয়নি, তা বোঝা গিয়েছিল লুচি-আলুর দম পর্বের রেশ ঠিকঠাক ফুরোবার আগেই। মেয়র পদে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সব্যসাচী। তার পর থেকে ছিলেন বিজেপিতেই। কিন্তু তারপর আবারও জল গড়ায় অন্য দিকে।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বঙ্গবিজেপির। দলে দলে লোকজন বিজেপি ছাড়তে শুরু করে। বেশ কয়েকজন নেতাও পদ্ম ছেড়ে হাতে তুলে নেন জোড়াফুল আঁকা ঝান্ডা। এই দলবদলের ভগীরথ ছিলেন মুকুল। ছেলে শুভ্রাংশুকে নিয়ে তিনি ফেরেন তৃণমূলে। তার পর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সব্যসাচীও।
বুধবার লক্ষ্মীপুজোর রাতে সব্যসাচীর বাড়িতে হাজির হন বিজেপির তারকা নেত্রী অঞ্জনা বসুও। তার পরেই জল্পনা ছড়ায়, অঞ্জনাও কি নাম লেখাচ্ছেন তৃণমূলের খাতায়? এই একি প্রশ্ন তাকেই করা হলে অঞ্জনার হেঁয়ালিপূর্ণ উত্তর, ঈশ্বরই জানেন! অর্থাৎ ক্রমশ প্রকাশ্য। অনেক ক্ষেত্রে আবার হেঁয়ালির প্রশ্নের মধ্যেই তার উত্তর লুকিয়ে থাকে… রাজনীতি বোধহয় একেই বলে!
