তবে কি এবার বিপাকে পড়তে হল অনুব্রত মন্ডলকে? দলের একাংশের ইঙ্গিত অনেকটা সেইদিকেই। ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাচ্ছেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল! অন্তত এমনই অভিযোগ উঠেছে দলের অন্দরে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের রোষানলে পড়ার ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এহেন দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে মুখ খুলবে কে?
তৃণমূলের কাটোয়া শহর সভাপতি শুভ্রা রায়। তাঁর ওপরই রয়েছে কাটোয়ার সাংগঠনিক দায়িত্ব। শুভ্রার পাশাপাশি এবার এই দায়িত্ব দেওয়া হল জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। এই দায়িত্ব দুজনের ঘাড়ে দিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে।
{link}
ক্ষীরগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে অনুব্রত বলেন, অরিন্দম দলের পুরানো কর্মী। এখন থেকে কাটোয়া শহরের সংগঠন দেখাশোনা করবে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, এই দায়িত্বই এখনও পালন করে চলেছেন শুভ্রা। তাঁর নামে কোনও অভিযোগও পুঞ্জীভূত হয়নি দলে। তাই কী কারণে অরিন্দমকে দেওয়া হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
প্রশ্ন উঠছে অন্যত্রও। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। কাটোয়া রয়েছে তাঁরই ‘অধীনে’। অথচ অরিন্দমকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হয়নি বলে অভিযোগ। রবীন্দ্রনাথ বলেন, কাটোয়া শহরের দায়িত্বে তো একজন রয়েইছেন। তার পরেও আর একজন কীভাবে, বুঝতে পারছি না।
বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিষয়টি জানেন না বলেই জানান তৃণমূলের মুখপাত্র দেবু টুডু। কিন্তু ওপরতলার কেউ কিছু না জানা সত্বেও কীভাবে অনুব্রত একাজ করলেন, তা বুঝতে পারছেন না তৃণমূলের সিংহভাগ কর্মীই। এখন দেখার, দলের প্রিয় কেষ্টদার দ্বারা নির্মিত এই ‘দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা’-এ কাটোয়ায় চাঙ্গা হয় তৃণমূলের সংগঠন, নাকি ভিতর থেকে উঠতে শুরু করে ক্ষোভ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অগ্নিশিখা।
