সাধারনত এমএলএ হোন কিংবা কাউন্সিলার কিংবা বিধায়ক, প্রত্যেকেই যখন নিজ মনোনয়ন জমা দেন তখনই সর্বসমক্ষে প্রকাশ্যে আসে তার সম্পত্তির পরিমান, যে পরিমান দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার মতো অবস্থা হয়ে ওঠে। কারন যা সাধারন চোখে পড়ে তা হল বিপুল অঙ্কের টাকা ও সম্পত্তি। কিন্তু এবার কার্যত চোখে এলো উল্টো ছবি। দীর্ঘ দিন মন্ত্রী ছিলেন, পুরনিগমের মেয়রও ছিলেন। অথচ তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ লজ্জায় ফেলতে পারে যে কোনও সাধারণ মানুষকে। হ্যাঁ, সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের কথাই এখানে বলা হচ্ছে। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ মাত্র সাড়ে তিন লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
{link}
২২ জানুয়ারি শিলিগুড়ি পুরসভার ভোট। ভোটের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁকে ফের ভোটে দাঁড়াতে অনুরোধ করেন। বুদ্ধদেবের অনুরোধ ফেলতে না পেরে ফের ভোটে দাঁড়াচ্ছেন অশোক। মনোনয়নপত্র দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম মেনে হলফনামা পেশ করেছেন অশোক। সেখানেই তিনি উল্লেখ করেছেন শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ। ওই হলফনামা থেকেই জানা যাচ্ছে গত অর্থবর্ষে অশোকের উপার্জন ৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৪০টাক। এই মুহূর্তে তাঁর হাতে রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
{link}
বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে প্রাক্তন এই মন্ত্রীর নামে রয়েছে ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৩০ এবং ৩৭ হাজার ৮০ টাকা। কোনও বন্ড, ব্যক্তিগত ঋণ, শেয়ার, সংস্থা বা মিউচুয়ার ফান্ডে তাঁর কোনও অর্থ নেই। তাঁর ব্যক্তিগত কোনও গাড়িও নেই। গয়না বা বহু মূল্যবান কোনও দ্রব্যও তাঁর নামে নেই। শিলিগুড়িতে অবশ্য তাঁর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। কলকাতার মানিকতলায় তাঁর নামে একটি সরকারি আবাসনও রয়েছে। বাণিজ্য শাখায় স্নাতক অশোক নিজেকে পার্টির হোলটাইমার বলেই দাবি করেছেন। সাধারন থেকেও কীভাবে অসাধারন হয়ে ওঠা যায় তা যেন রাজনৈতিক মহলকে আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন অশোক বাবু।

