নিজস্ব প্রতিনিধিঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দেখেছিল বিজেপির প্রচারের গেরুয়া ঝড়। ভোটে বিজেপির দিল্লির নেতারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাংলা দখলে। ঘন ঘন দিল্লি-কলকাতা যাতায়াত করেছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা। খোদ প্রধানমন্ত্রী এ রাজ্যে একুশটি জনসভা করেছিলেন। আর ছোটবড় মিলিয়ে ১২১টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির এহেন বৃহৎ রাজনৈতিক প্রচারের ছবি এর পূর্বে দেখেনি রাজ্যের মানুষ। যদিও তার পরেও অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। বঙ্গবিজয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি বিজেপির। ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিলেও মাত্র ৭৭টি আসন আসে গেরুয়া ঝুলিতে। ব্যার্থ হয় বঙ্গবিজয়ের স্বপ্ন।
{link}
বিধানসভা ভোট বিজেপির যতটাই তারকাপূর্ণ হয়েছিল, ততটাই ম্যাড়ম্যাড়ে হয়েছিল কলকাতা পুরসভার ভোট। ওই ভোটে বিজেপির কোনও সর্বভারতীয় নেতাকে প্রচার করতে দেখা যায়নি। তার আগে ভবানীপুর উপনির্বচনের রংও ছিল ফিকে। অথচ ওই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁকে হারানোটা সব চেয়ে জরুরি ছিল বিজেপির। কারণ এই মমতাকেই নন্দীগ্রামে হারিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাই তাঁকে হারানোটা বেশি প্রয়োজন ছিল। তাহলে অন্তত আর যাই হোক নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী খুঁজতে হত তৃণমূলকে। অথচ ওই ভোটেও বিজেপির দিল্লিশ্বরোদের একজনকেও দেখা যায়নি।
{link}
চলতি মাসের ২২ তারিখে রাজ্যার চার পুরসভার নির্বাচন। এগুলি হল, আসানসোল, শিলিগুড়ি, চন্দননগর ও বিধাননগর। কলকাতা পুরসভার রাশ গিয়েছে তৃণমূলের হাতে। তাই এই চার পুরসভার চোখধাঁধানো ফল করা বিজেপির প্রয়োজন। কিন্তু এই চার পুরসভা ভোটেও বিজেপির দিল্লির নেতারা আসছেন না বলে গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর।
দিন কয়েক আগে কলকাতায় রাজ্য বিজেপির নয়া কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক(সংগঠন) বিএল সন্তোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, ৯ এবং ১০ তারিখ প্রচারে আসবেন জেপি নাড্ডা। জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে আসার কথা ছিল অমিত শাহের। তবে করোনার কারণে দুজনেই আসছেন না বলে গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর।
যার ফলে বিধানসভা নির্বাচনের ন্যায় বিজেপির সেই প্রচারের ঝলক যে এই চার পুরসভা নির্বাচনের প্রচারে যে দেখা যাবে না তা স্পষ্ট। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে জোর ধাক্কা খাওয়ার পর খুব বেশি আর এই মুখো হননি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরা। যার ফলে আগামী সময়েও সেই প্রচারের ছবি দেখা যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এবং আগামী এই চার পুরসভা নির্বাচনেও যে রংহীন প্রচার হবে বিজেপির তা অনেকটাই স্পষ্ট।
