বিজেপি কর্মী ব্যাতিত কোন একজন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মানুষ তিনি আবার পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায়। ভাবা যায়! যদিও, হ্যাঁ এহেন ঘটনাই ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শ্যালিকা। মোদির প্রশংসা করলেও, বুদ্ধদেবের নিন্দে করেননি ইরাদেবী। বাম এবং বিজেপির এই দুই নেতা ছাড়াও তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের বিধানচন্দ্র রায়।
দিন কয়েক আগে পর্যন্ত ইরাদেবীর ঠিকানা ছিল ডানলপ বাসস্ট্যান্ড। শিক্ষক দিবসের দিন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাঁকে। তার পরেই রাজ্যবাসী জানতে পারেন বাসস্ট্যান্ডে যিনি বাস করছেন, তিনি আদতে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শ্যালিকা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরসভার তরফে ইরাদেবীকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেখান থেকে খড়দহের বাড়িতে ফেরেন তিনি। বামপন্থী রাজনীতিকের পরিবারের সদস্য ইরাদেবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অত্যন্ত সম্মান করেন। মোদির একাত্তরতম জন্মদিনে তিনি বলেন, মোদি কোনওদিন চুরি করতে পারেন, এটা তিনি বিশ্বাস করেন না।
{link}
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবের সভায় একাধিকবার দেখা গিয়েছিল ইরাদেবীকে। সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, জামাইবাবু মুখ্যমন্ত্রী বলে কোনও দিন কোনও সুযোগ নেননি অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা ইরাদেবী। এর সব চেয়ে বড় প্রমাণ বাম জমানায় অবসর নিলেও, আজও পেনশন পাননি ইরাদেবী। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই তাঁকে পেনশন চালুর আশ্বাস দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
বর্ষীয়ান এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার চোখে মোদি সৎ। তিনি চুরি করতে পারেন বলে বিশ্বাস করেন না ইরাদেবী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবও ভালো মানুষ বলে মনে করেন ইরাদেবী। এর পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের বিধানচন্দ্র রায়কেও। অর্থাৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বদের প্রতি তার একটা ভালোবাসার স্থান রয়েছেই। কিন্তু তার এই মন্তব্য শোনার পর স্বাভাবিক ভাবেই বেশ খানিকটা চমকে উঠেছেন রাজ্যের সমস্ত সিপিআইএম নেতা কর্মীরা। হওয়াটাই স্বাভাবিক অবশ্য।
