রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতে বামেদের মতো তারুণ্যেই ভরসা করছে বিজেপি। অন্ততঃ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা বিএল সন্তোষের বেঁধে দেওয়া বয়সসীমা দেখে তাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তরুণ প্রার্থীদের দাঁড় করিয়ে গত বিধানসভা ভোটে চমকে দিয়েছিল বামেরা। কলকাতা পুরসভার ভোটের বাম প্রার্থীরাও ছিলেন নবীন। সেভাবেই এবার কলকাতায় এসে সংগঠনের নেতা নেত্রীদের বয়সের লক্ষ্ণণরেখা টেনে দিয়ে গেলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। কারন শেষ উপনির্বাচন এবং কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে জোর ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য বিজেপি শিবির। গ্রাফ হয়ে উঠেছে নিম্নমুখী, এতোএব এক্ষুনি থেকে সিদ্ধান্ত না নিলে, ভবিষ্যৎ যে রীতিমতো সংকটে তা স্পষ্ট।
‘বার্ধক্যতন্ত্রে’র জেরে বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে দলের। অন্ততঃ এমনই ভেবেছিলেন বামেদের একাংশ। সেই মতো বিধানসভা ভোটে বাম নেতৃত্ব প্রার্থী করেছিলেন তরুণদেরই। তবে তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। কংগ্রেস এবং আইএসএফের সঙ্গে জোট বেঁধেও জয় হয়নি ‘তারুণ্যে’র। একমাত্র ভাঙড় ছাড়া অন্য কোনও আসনেই জয়ী হননি জোটের কোনও প্রার্থী। তরুণ প্রার্থীরা জয় না পেলেও, লোকমুখে বারবার ঘুরেফিরে আসছিল ঐশী, মীনাক্ষীর মতো তরুণ প্রার্থীদের নাম। পুরভোটে রেড ভলেন্টিয়ারর্সদের মধ্যে থেকে প্রার্থী করে অবশ্য কিঞ্চিত সাফল্য এসেছে। তৃতীয় নয়, দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন বামেরা।
{link}
বামেদের দেখানো সেই পথেই এবার হাঁটতে চলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। সংগঠনের নেতানেত্রীদের বয়স বেঁধে দিলেন তাঁরা। সোমবার নতুন রাজ্য কমিটি ও জেলা সভাপতিদের নিয়ে কলকাতায় জাতীয় গ্রন্থাগারের ভাষা ভবনে বৈঠক করেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, যুব মোর্চার জেলা নেতাদের বয়স হতে হবে ৩২এর মধ্যে। রাজ্য কমিটিতে রাখা যাবে না ৩৫ বছরের উর্ধ্বে কাউকে। মূল সংগঠনেও বয়স বেঁধে দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতিদের সন্তোষের নির্দেশ, ৯ জানুয়ারি মধ্যে জেলা কমিটি তৈরি করতে হবে। তারপর মন্ডল কমিটি। মণ্ডল সভাপতিদের বয়স যেন ৪৫ বছরের বেশি না হয়।
{link}
প্রসঙ্গত, বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বয়স তিরিশের কোঠায়। রাজ্য কমিটিতে যাঁরা জায়গা পেয়েছেন, সেই জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পালেদের বয়সও ওই রকমই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণ মুখের ওপর ভরসা করেই ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি। তবে তা যে একদিনে হবে না, তাও স্বীকার করেছেন গেরুয়া নেতৃত্ব। তাঁরা বলছেন, তরুণ নেতাদের দিয়ে একদিনে হবে না, তবে একদিন হবেই। এতোএব ভবিষ্যৎ কে আরও সুদৃঢ় এবং মজবুত সংগঠন গড়ে তোলার জন্য পদ্মের শিবিরের আস্থা এখন যুবাদের উপরেই। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতের জন্য তারা মজবুত ও শক্তিশালি দল গড়ে তুলতে সক্ষম হন কি না।
