মাত্র দু’ বছরের ব্যবধানে কিভাবে এমন বিরট পতন হল বিজেপির? এখনও পর্যন্ত গেরুয়া নেতৃত্বের তরফে এর কোনও সদুত্তর মেলেনি। তবে সূত্রের খবর প্রকাশ্যে না হলেও, আবডালে মুখ খুলেছেন অনেক বিজেপি নেতাই। এর পাশাপাশি মুখ খুলেছেন দলের নিচুতলার নেতাকর্মীরাও।
বিজেপি নেতাদের একাংশের মতে, দলের কিছু নেতা তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই দলের অন্দরের পরিকল্পনার কথা জেনে যাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। সেই মতো তারা গড়ে তুলছে প্রতিরোধ। দলের নিচুতলার নেতাদের একাংশের মতে, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের জেরে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বিজেপি। যার জেরেই একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের লক্ষ্যমাত্রা পূরনে ব্যার্থ হয়েছে পদ্মের শিবির।
{link}
দিল্লি গিয়ে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা-মোদির এই ঘন ঘন বৈঠক ভালো চোখে দেখছেন না দলের নিচুতলার নেতারা। তাঁদের মতে, বাম এবং কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করতেই মমতা মোদিকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে রেখেছেন। সেই কারণেই দিল্লি গেলেও সোনিয়ার সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে আসেন মমতা। গোয়া, মেঘালয় সহ বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস ভাঙানোর খেলায় মেতেছেন তৃণমূল নেত্রী। স্বাভাবিকভাবেই বাংলায় বিধানসভা থেকে উপনির্বাচন সর্বত্রই একা খেলে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। সেই কারণেই পুরভোটে ছন্নছাড়া দশা দলের।
পুরসভা ভোটে প্রার্থী নিয়ে গন্ডগোল দেখা দিয়েছে দলের অন্দরে। দলের অফিশিয়াল প্রার্থীর বিরুদ্ধে গোঁজ প্রার্থী দিয়েছেন অনেকে। এই সব কারণেই দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন বিজেপি নেতাদের একাংশ। তার জেরেই দল চলছে ক্রমেই অধঃপাতের দিকে। হচ্ছেনা প্রচার, দেখা যাচ্ছেনা প্রচারের গেরুয়া ঝড়ও। কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও যেন ময়দানে লড়াইয়ে থেকেও নেই রাজ্যের গেরুয়া শিবির।
