ফের রাজ্যে বিতর্কে জড়ালো বিজেপি নেতা ও বিজেপির নাম। ১০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে রাজ্যে গ্রেফতার বিজেপি নেতা। গ্রেফতার হয়েছেন বিষ্ণুপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় একুশের ভোটের আগে তিনিও বহু নেতার মতো যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। পুরসভার টেন্ডার সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। অন্যায়ের শাস্তি পেতেই হবে শ্যামাপ্রসাদবাবুকে, বলছে তৃণমূল। বিজেপিতে যোগ দেওয়ায়ই গ্রেফতার করা হয়েছে বর্ষীয়ান এই নেতাকে, দাবি গেরুয়া শিবিরের। প্রতিশোধ নিচ্ছে তৃণমূল বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
{link}
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী। তৃণমূলের প্রথম দুটো টার্মে মন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। ছিলেন বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যানও। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে আগে শ্যামাপ্রসাদ যোগ দেন বিজেপিতে। তবে পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি আর্থিক তছরুপ করেন বলে অভিযোগ। শ্যামাপ্রসাদের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগেই এদিন সাতসকালে গ্রেফতার করা হয় বর্ষীয়ান এই নেতাকে।
বিজেপির একটি সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেও, বিজেপির বিপর্যয়ের পর ফের শ্যামাপ্রসাদ ঝুঁকতে শুরু করেছিলেন তৃণমূলের দিকে। গত ৩৪ বছর শ্যামাপ্রসাদই ছিলেন বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান। তাঁর সময়কালে ৫৫টি প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছিল। যদিও সেই প্রকল্পগুলির কোনও কাজ হয়নি। তা নিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠান ভিজিল্যান্স অফিসার। তদন্তে নামেন স্বয়ং মহকুমা শাসক। দেখা যায়, শ্যামাপ্রসাদের আমলে তছরূপ হয়েছে ১০ কোটি টাকা। এর পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক কুতুবউদ্দিন খান। তার ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
{link}
বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। তাই তাঁর গ্রেফতারিকে বিপাকে দল। তবে বিজেপির একটি অংশের অভিযোগ, শ্যামাপ্রসাদ এতদিন ধরে দুর্নীতি করে গেলেও, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিজেপিতে যোগ দিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শ্যামাপ্রসাদ দুর্নীতি করছেন জেনেও কেন চুপ ছিল তৃণমূল? একজন দুর্নীতিগ্রস্তকে কেনই বা মন্ত্রী করা হয়েছিল? যদিও তৃণমূলের দাবি, অন্যায়ের শাস্তি পেতেই হবে শ্যামাপ্রসাদকে। এখন এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করবে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত ফলাফল কি দাঁড়ায় তার উপরেই নির্ভর করবে বাংলার এই রাজনীতিবিদের ভবিষ্যৎ।
