একসময় রাজ্য বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি, এখন যোগদান করেছেন বিপক্ষের শিবিরে। বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ বাবুল এখন শোভা বাড়াচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরে। তাই যেভাবে মুখ পুড়েছে, আসানসোলে আর বহিরাগত কাউকে ভরসা করতে ইচ্ছুক নয় বিজেপির শিবির। সেই কারনেই আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে ভূমিপুত্র কাউকেই প্রার্থী হিসেবে চাইছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ‘বহিরাগত’ বাবুল সুপ্রিয় করে ঢের শিক্ষা হয়েছে। সেই কারনেই ওই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর নয়। তাই এহেন দাবি বলে আসানসোল বিজেপির বক্তব্য।
{link}
পেশায় প্লে-ব্যাক সিঙ্গার বাবুল সুপ্রিয় রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন ২০১৪ সালে। ওই বছরই ছিল লোকসভা নির্বাচন। আসানসোলে প্রার্থী করা হয় বাবুলকে। বাবুলের সমর্থনে প্রচারে আসানসোলে এসেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভরা জনসভায় তিনি বলেন, মুঝে বাবুল চাহিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সে আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন আসানসোলবাসী। তৃণমূলের তারকা প্রার্থী মুনমুন সেনকে হারিয়ে সংসদের উঠোনে পা রাখেন বাবুল। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর চোখের জলে লড়াই শেষ হয়েছিল অভিনেত্রীর। পুরস্কার হিসেবে ওই বছরই তাঁকে ঠাঁই দেওয়া হয় মোদির মন্ত্রিসভায়। প্রতিমন্ত্রী করা হয় তাঁকে। পরের লোকসভা নির্বাচনেও আসানসোলেই প্রার্থী হন বাবুল। এবারও বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। ফের মন্ত্রী হন।
মাসকয়েক আগে রদবদল হয় মোদি মন্ত্রিসভায়। বাদ পড়েন বাবুল। এর পরেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। বিজেপির কোনও কর্মসূচিতেই যোগ দিতে দেখা যায়নি তাঁকে। বেশ কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর মাস কয়েক আগে তৃণমূলে যোগ দেন শিল্পী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বাবুল। তৃণমূলের তরফে দায়িত্ব পেয়ে আপাতত তিনি রয়েছেন গোয়ায়, সংগঠন বিস্তারের কাজে।
{link}
বাবুলের এই ‘ধোঁকা’ মেনে নিতে পারছেন না আসানসোলবাসী। ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে উপনির্বাচন। তাই ‘বহিরাগত’ বাবুলের মতো কাউকে নয়, দলের পুরানো কোনও কর্মীকেই এবার প্রার্থী হিসেবে চাইছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির আসানসোল জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক লক্ষ্ণণ ঘোড়ুই বলেন, বহিরাগতকে প্রার্থী করে আমরা এখন ভুলের খেসারত দিচ্ছি। সে ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযাই আসানসোলে প্রার্থী হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে বাবুল নিজেও। এতোএব আসানসোলে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও নতুন কোন মুখ নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন। বিজেপির বিরুদ্ধে কে দাঁড়ান আর পক্ষেই বা কে সেই দিকেই লক্ষ্য থাকবে আসানসোলবাসীর।
