বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী শিবির বিজেপি। রাজ্যের শাসক শিবিরকে সবদিক থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়াই লক্ষ্য তাদের। কিন্তু সেই লড়াইয়ে যেন বারবার পিছিয়ে পড়ছেন তারা। সেই ছবিটাই ধরা পড়ছে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে। আসন সংখ্যা ১৪৪। অথচ বিজেপির টার্গেট মাত্র ১০টি আসন। কলকাতা পুরনিগমের ভোটে এই ১০টি আসনই পেতে চাইছে বিজেপি। গতকাল আইসিসিআরে বৈঠকে বসেন বিজেপি নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিও। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, উনিশের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রায় ৫০টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের নিশ্চিত করে পেতে হবে ১০টি আসন। আমি নিজে নেতা হিসেবে নয়, সাধারণ কর্মীর মতো কাজ করব।
{link}
একুশের বিধানসভা ভোটে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে হেরে গেলেও, ভবানীপুরে বিপুল ভোটে জয়ী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে এ পর্যন্ত যত ভোট হয়েছে সব ভোটেই বিপুল ভোটে জিতেছে তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ গেরুয়া শিবিরের কর্তাব্যক্তিরা। তাই প্রচারেও সেই অর্থে ঝড় ওঠেনি। এমতাবস্থায় দলীয় কর্মীদের চাঙা করতেই ১০টি ওয়ার্ডের টার্গেট বেঁধে দিলেন শুভেন্দু।
১৯শের লোকসভা ভোটে কলকাতার ৫০টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। দু বছর পরে একুশের বিধানসভা ভোটে সেই সংখ্যাটা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯। এই ৯টি বাদে আরও একটি আসন জিততে হবে বলেই লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন শুভেন্দু। একুশের বিধানসভা ভোটে ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল বিজেপি। ভোটের ফল বেরলে দেখা যায় গেরুয়া ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৭৭টি আসন। তাই শুভেন্দুর বেঁধে দেওয়া টার্গেট আদৌ পূরণ হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান পদ্ম-কর্মীরাও।
{link}
কলকাতায় বিজেপির সংগঠন সেই অর্থে নেই। ভাঙা কোমরেই তাঁদের লড়াই করতে হবে। এ কথা জানেন বিজেপির ভোট ম্যানেজারেরাও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ১০টি আসনে জিতলেও, একপ্রকার মুখ রক্ষা হবে বিজেপির। ২০১৫ সালে শেষবার নির্বাচন হয় কলকাতা পুরনিগমের। সেবার বিজেপি পেয়েছিল ৭টি আসন। এবার অন্তত ১০টি না পেলে সংগঠন বাড়ছে, এটা প্রমাণ করা যাবে না। তাই ১০টি আসনের টার্গেট বেঁধে দেওয়া হল বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। কিন্তু ১০টি আসন পাওয়া যাবে কিনা তাও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়ে উঠছে না। কারন, প্রচারে সেই গেরুয়া ঝড় কোথায়? স্বাভাবিক ভাবেই এহেন ছবি যে রাজ্য বিজেপির জন্য ভীষনরকম অস্বস্তিকর তা এককথায় স্পষ্ট।
