একে একে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলই প্রকাশ কয়েছে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা। গত রবিবার দুপুরেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। পুরসভার ১৪৪টি আসনেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও মেয়র প্রোজেক্ট করা হয়নি কাউকেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে কাকেই বা প্রধান মুখ করে পুরসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে নামবে বিজেপি? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় এলে তার পরেই নির্বাচন করা হবে মেয়র।
দলনেত্রীর সঙ্গে মনান্তরের জেরে জোড়াফুল শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।পরে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দিল্লি উড়ে যান শোভন। পরে যোগ দেন বিজেপিতে। তার পর থেকে অবশ্য এক দিনের জন্যও শোভনকে দেখা যায়নি গেরুয়া শিবিরে। মাস কয়েক আগে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন শোভন। শোভন দক্ষ প্রশাসক। দীর্ঘদিন কলকাতা পুরসভার মেয়র ছিলেন। দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন মন্ত্রিত্বও। এহেন শোভন দলে থাকলে মেয়র হতেন। শোভন বিজেপি ছাড়ার পর খোঁজ চলতে থাকে মেয়র মুখের।
{link}
ততদিনে তৃণমূলে চলে এসেছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। দক্ষতা তাঁরও কিছু কম নয়। তবে কি, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে ফের তৃণমূলেই ফিরেছেন সব্যসাচী। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মুখথুবড়ে পড়ার পর সব্যসাচী ফিরে যান তৃণমূলে। তাই এই মুহূর্তে বিজেপি ভোটে গেলেও তারা কাউকেই মেয়র প্রজেক্ট করেনি। অথচ এদিনই ১৪৪টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন পদ্ম নেতৃত্ব।
{link}
মেয়র প্রজেক্ট কাউকে করেনি তৃণমূলও। তবে যেভাবে এক ব্যক্তি একটি পদ নীতি উপেক্ষা করে ফিরহাদ হাকিমকে প্রার্থী করা হয়েছে, তার থেকে এ কথা স্পষ্ট, তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে মেয়র হবেন ফিরহাদই। যেহেতু তৃণমূলই গত কয়েক বছর শাসক শিবিরে রয়েছে সেই কারনে তাদের কেন্দ্রীয় মুখ বলতে একবাক্যে সকলের সামনে উঠে আসবে মুখ্যমন্ত্রীর নামই। তার অনুগত সৈনিক ফিরহাদই এগিয়ে আছেন মেয়র হওয়ার দৌড়ে সেই কারনেই ঘাসফুল শিবিরের ছবিটা অনেকটাই স্পষ্ট। কিন্তু বিজেপিকে মানুষ ভোট দেবেন কোন বিশ্বাসে? কাকে দেখে?

