বাস্তব বলছে তিনি ঘোর তৃণমূল, বর্তমানে যদিও সেই নিয়ে বিপুল দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই তিনিই জন্মদিনে তেড়ে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে, যিনি একসময়ে তার আদর্শও ছিলেন বটে। ঘটনায় যারপরনাই বিস্মিত বিজেপি নেতারা। তবে মুকুলের এহেন আচরণে মোটেই অবাক নয় বলেই মতামত রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
২০১৭ সালের পুজোর ঠিক আগে আগে তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কে দাঁড়ি টেনে দেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুকুল রায়। মাস দুয়েক পরে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। দিল্লি গিয়ে হাতে তুলে নেন পদ্ম আঁকা ঝান্ডা। পণ করেন তৃণমূলকে শেষ করার। কথায় কথায় জয়ধ্বনি দিতে থাকেন মোদি-শাহের।
একুশের নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে পদ্ম চিহ্নে প্রার্থী হন মুকুল। বিজেপির ব্যানারে হইহই করে জিতেও যান তিনি। এর ঢের আগেই অবশ্য তৃণমূলের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ করতে শুরু করে দেন মুকুল। মাস দুয়েক আগে একদিন আচমকাই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। সঙ্গে নিয়ে যান ছেলে শুভ্রাংশুকেও।
{link}
কথায় কথায় যে মোদির জয়ধ্বনি করতেন মুকুল, আজ, প্রধানমন্ত্রীর ৭১তম জন্মদিনে তাঁকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। টুইটে মুকুল লেখেন, বিজেপি যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন পালন করছে, তখন নাগরিকদের মনে পড়ছে নোটবন্দি, মূল্যবৃদ্ধির কথা...। এই ন্যাশনাল জুমলা ডে-তে আমরা একটাই আশা করতে পারি যে তিনি নিজের সবকা সাথ সবকা বিকাশের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন এবং আপনা কাম বনতা...করবেন না।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নিজেকে ঘোর তৃণমূলী প্রমাণ করতে মরিয়া মুকুল। তাই জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে এহেন বেনজির আক্রমণ। প্রায় একই ভাষায় কথা বলেছেন সাংসদ তৃণমূলের নুসরত জাহানও। তবে তিনি রাজনীতির জগতে নবীন।
বর্তমানে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করার পর বিরূপ মন্তব্য করার কারনে আরও বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। এখন তিনি কোন দিকে আছেন কিইবা করছেন সবকিছু নিয়েই কটাক্ষ করতে পিছপা হচ্ছেন না কেউই।
