সদ্দসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাককালে বেশ কয়েকজন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা একে একে যোগদান করেন বিজেপিতে।পরবর্তিকালে বিজেপি আশানরুপফল না পাওয়ার পর থেকেই একে একে ফিরতি যাচ্ছেন তৃণমূলে। সেই রকমই বিজেপিতে সাড়ে চার বছর থাকার পর কিছুদিন আগেই তৃণমূলে ফিরে গেছেন মুকুল রায়। এর পর থেকেই গুজব ছড়িয়েছে যে বিবেকের দংশনে ভুগছেন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়!
শুক্রবার দলের কাজে কৃষ্ণনগরের বেলডাঙায় গিয়েছিলেন মুকুল। সেখানে দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা নেওয়ার পর তিনি বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি তৃণমূল কংগ্রেস পর্যুদস্ত হবে। এখানে ভারতীয় জনতা পার্টি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে। এর পর নিজেকে সামলে নিয়ে মুকুল বলেন, এখানে তৃণমূল কংগ্রেস নিজের ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে। বিজেপির অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাবে না। উপনির্বাচনে সাধারণ মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে। বিজেপি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।
{link}
কৃষ্ণনগরে তৃণমূল-বিজেপি গুলিয়ে ফেলে তাঁর করা মন্তব্যের জেরে আত্মগ্লানিতে ভুগছেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধরা পড়েছে তাঁর সেই অসহায়তার ছবি। শরীর খারাপের কারণেই বাবার এহেন ভুল, বলছেন মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু। যদিও শরীর খারাপের তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন মুকুল স্বয়ং। মুকুলের এহেন মন্তব্যে তোলাপাড়া হয় তৃণমূলের অন্দরে। বিষয়টিকে স্লিপ অফ টাং বলে অভিহিত করলেও, বেজায় অস্বস্তিতে পড়েন দলীয় নেতৃত্ব। তবে কেবল দলীয় নেতৃত্ব নন, আত্মগ্লানিতে ভুগছেন মুকুল নিজেও। সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, সেটা হওয়া ঠিক হয়নি। একেবারেই উচিত হয়নি।
{link}
শুভ্রাংশু অবশ্য বলছেন, মা মারা যাওয়ার পর বাবার শরীরটা ভালো নেই। শরীরে সোডিয়াম পটাশিয়ামের ভারসাম্যে গোলমাল হচ্ছে। পুরানো অনেক কথা তো বটেই, ভুলে যাচ্ছেন সাম্প্রতিক অনেক ঘটনাও। এমতাবস্থায় বাবার কথাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখা উচিত নয়। মুকুল অবশ্য বলেন, আমার শরীর ঠিকই আছে। এর পরেই তিনি ফের বলেন, যেটা হয়েছে, সেটা হওয়া ঠিক হয়নি। একেবারেই উচিত হয়নি। গ্লানি ঝরে পড়ে মুকুলের কণ্ঠে।
{ads]
