রাজ্যে এখন মহিলা শক্তি এবং তার পাশাপাশি মহিলা ও কন্যাদের উন্নয়নের উপরেই বেশি জোর দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মহিলা শক্তিতেই একুশের বিধানসভায় জয় সম্ভবপর হয়েছিল বাংলায়। এবার পড়শি রাজ্য ত্রিপুরা জয়েও সেই স্ত্রী শক্তিকেই হাতিয়ার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। আসন্ন আগরতলা পুরনিগমের প্রায় অর্ধেক আসনেই মহিলা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারেরা। এবং সেই লক্ষ্যেই এগিয়েওছে তারা। এ রাজ্যে মহিলাদের জন্য যে সব প্রকল্প চালু হয়েছে, ত্রিপুরায় ক্ষমতায় এলে ধাপে ধাপে সেগুলোও চালু করার পরিকল্পনা করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব বলেও সূত্রের খবর।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে ফের বাংলার মসনদে বসে তৃণমূল। এর পর তামাম ভারতে সংগঠন বিস্তারের সিদ্ধান্ত নেয় জোড়াফুল শিবির। উত্তর পূর্বের ছোটো ছোটো রাজ্যগুলির পাশাপাশি আরব সাগরের তীরের ছোট্ট রাজ্য গোয়াকেও পাখির চোখ করে তৃণমূল। তার ফলও ফলেছে। উত্তর পূর্বের ত্রিপুরার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই গোয়ায়ও মজবুত সংগঠন গড়ে তুলে ফেলেছে মমতার দল।
ত্রিপুরা রাজ্যটি বাঙালি অধ্যুষিত। তার রশি যাতে ফের বিজেপির হাতে না যায়, সেজন্য অনেক আগে থেকেই কোমর কষে নেমে পড়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ত্রিপুরা বিধানসভার ভোট হবে ২৩ সালে। তার পরের বছরই লোকসভা নির্বাচন। আর চলতি বছরই হচ্ছে আগরতলা পুরনিগমের ভোট। আগামী ২৫ তারিখে ভোট হবে ত্রিপুরা পুরনিগম ও নগর পঞ্চায়েতের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের কাছে এই ভোট অগ্নিপরীক্ষার শামিল। আগরতলা পুরনিগমের আসন সংখ্যা ৫১টি। সবকটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। এর মধ্যে ২৫টি আসনেই মহিলা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জোড়াফুল শিবিরের ভোট ম্যানেজারেরা।
{link}
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মহিলা ভোটের সিংহভাগই জোড়াফুলের ঝুলিতে পড়ায় মমতার বঙ্গবিজয় হয়েছে অনায়াস। সেই অস্ত্রেই বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় বাজিমাত করতে চাইছে জোড়াফুল শিবির। ত্রিপুরার ক্ষমতায় এলে বাংলার বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রকল্পগুলিও চালু করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে ত্রিপুরায় এবারে পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি তৃণমূল শিবির। সবকটি আসনে প্রার্থী দিতে ব্যার্থ হয়েছেন তারা। যাতে সুবিধা হয়েছে শাসক শিবিরেরই। বিরোধী পক্ষ হয়ে পড়েছে কমজোরি। ফলে এখন পুরসভা নির্বাচনে আদৌ তৃণমূল দাঁত ফোঁটাতে সক্ষম হয় কি না, তাই দেখার বিষয়।

