দলে অতিরিক্ত খাতির করা হচ্ছে নতুনদের, খাতির করা হচ্ছে দলবদলুদের। যার ফলে দলে ক্রমেই ব্রাত্য হয়ে পড়ছেন আদিরা বা বিজেপির একদম গড়ের কর্মীরা। এই অভিযোগের চোরাস্রোতই বইছে বিজেপির অন্দরে। যার ফলে প্রত্যাশিতভাবেই গেরুয়া শিবিরে বেড়েই চলেছে আদি-নব্য দ্বন্দ্বের ক্ষোভের পারদ, কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে দল। যে কোনও সময় এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। দলে পুরোনো সময়ের মূল লোকেরাই আজ নতুনের আগমনে ব্রাত্য হয়ে উঠেছেন, একথা মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।
{link}
লোকসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল থেকে দলে দলে লোকজন চলে আসেন বিজেপিতে। এঁদের মধ্যে তৃণমূলের প্রথম সারির কয়েকজন নেতাও রয়েছেন। আর বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে কার্যত ওঠে দলবদলের ঝড়। এই ফুল থেকে ওই ফুলে গমন করেন অনেকেই। বেড়ে ওঠে পদ্মের দলের শক্তি। এঁদের ঢের আগেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছিলেন মুকুল রায়। সম্প্রতি ছেলেকে নিয়ে ঘরওয়াপসি হয়েছে মুকুলের। তবে দলে আসা বাকিরা অবশ্য এখনও রয়েছেন গেরুয়া শিবিরেই। দলবদলুদের ধরে রাখতে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তার জেরেই আরও বেড়েছে ক্ষোভের পারা।
{link}
সম্প্রতি দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সঞ্জীব মিত্রকে। বহিষ্কার করা হয়েছে জেলার আরও এক নেতা নিতাই মণ্ডলকে। সতর্ক করা হয়েছে হুগলির নেতা সুবীর নাগকেও। এর পরেই দলের অন্দরে ক্রমেই প্রকটিত হতে শুরু করেছে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব। আদি বিজেপি নেতাদের দাবি, একই অপরাধে দলের পুরানো নেতা-কর্মীদের শাস্তি দেওয়া হলেও, দলবদলুদের কোনও শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে কয়েকজন আদি বিজেপি নেতা বলেন, ফেসবুকে মমতা স্তুতি করেও পার পেয়ে গেলেন রাজীব। শুভ্রাংশুও দলে থেকেই বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও পরে তিনি গেরুয়া-সঙ্গ ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। অথচ সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটলেই আদিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা অবশ্য বলেন, দলবদলুরা দল ছেড়ে দিতে পারেন। তাই তাঁদের শাস্তি দিয়ে কোনও লাভ হবে না।
যার ফলে বর্তমানে কার্যত অর্ন্তদ্বন্দ্ব সামাল দিতে নাজেহাল অবস্থা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। তার উপর রাজীব ব্যানার্জির মতো শীর্ষ নেতৃত্বেরা উলটো সুরে গান গাইছেন। নব্য পুরোনো দ্বন্দ্ব কাটিয়ে এখন যত দ্রুত তারা নিজেদের পায়ের জমি আবারও বাংলার বুক দাঁড় করাত সক্ষম হয়, তাই দেখার বিষয়।

