একুশের নির্বাচনের পর কার্যত বড়োসড়ো আঘাত লেগেছে একেবারে শিরদাঁড়ায়। তার উপর ভোট মিটতেই দলের অন্দরে লেগেছে একাধিক লড়াই। যার ফলে কার্যত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে রাজ্য বিজেপির সংগঠন। এবার সেই ভাঙাচোরা সংগঠন চাঙ্গা করার চেষ্টায় নামছে রাজ্য বিজেপি! বিশেষ শিবির করে আদি কর্মীদের দলে ফেরাতে চাইছেন গেরুয়া নেতৃত্ব। এই শিবিরের মূল লক্ষ্যই হল, বুথ, মণ্ডল, জেলা এবং রাজ্যস্তরের যত আদি বিজেপি কর্মী-সমর্থক রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত দলে ফিরিয়ে নেওয়া। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নির্দেশে জেলায় জেলায় এই ধরণের শিবিরের প্রস্তুতি শুরু করেছে দল।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শয়ে শয়ে নেতা-কর্মী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। নবান্ন দখলের লক্ষ্যে তাঁদেরই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তার জেরে দল কার্যত আড়াআড়িভাবে দুভাগ হয়ে যায়। একদিকে বিজেপির আদিরা, অন্যদিকে দলবদলে যাঁরা বিজেপিতে এসেছেন, তাঁরা। ওই নির্বাচনে মাত্র ৭৭টি আসনে জয় পায় বিজেপি। যদিও প্রচারে এসে স্বয়ং অমিত শাহ দাবি করেছিলেন ২০০ আসন পাবে বিজেপি। লক্ষ্যপূরণ না হওয়ায় দলে শুরু হয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাতে দেখা যায়, দলের আদিরা নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছেন। দলবদলুদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ায়ই তাঁরা ভোটের আগে বসে গিয়েছেন। যার জেরেই জয়ের অনুকূল পরিস্থিতি থাকা সত্বেও লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেননি পদ্ম-নেতৃত্ব।
{link}
উপনির্বাচন মিটলেই হবে পুরসভা নির্বাচন। তার পর ২০২৪ এ মহারণ। তার আগে রয়েছে পঞ্চায়েত ভোট। এই সব ভোটের আগে দলের এই ‘বসে যাওয়া’ কর্মীদের সক্রিয় না করলেই নয়। এমনিতেই দলের বিপর্যয়ের পর তৃণমূলে ফিরে যেতে শুরু করেছেন দলবদলুদের অনেকেই। সেটাও তড়িঘড়ি আদিদের ফেরানোর একটা উদ্যেশ্য। সেই কারণেই শিবির করে আদিদের ফেরানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি।
উল্লেখযোগ্যভাবে এবারে রাজ্যের দলবদলুদের প্রাধান্য দেওয়ার কারনেই রাজ্যে বিজেপি ডুবেছে বলেও মনে করেন অনেক রাজনীতিবিদ। এখন সেইক্ষেত্রে দলের পুরোনো মুখে আস্থা রাখলে অন্য পরিমানও হতে পারত ফলাফলে বলে মতামত ছিল অনেকের। এখন একবার এই পন্থা নিয়ে ভরাডুবি হলে এবার পুরোনোদের উপর আস্থা রেখেই সামনের লড়াইয়ে এগোতে পারে বলে মতামত রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।
