বেশ কয়েকদিন যাবৎ নিজের টুইটারে দলের ও দলীয় নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরণ করেছেন তিনি। তার টুইটের কারনে রীতিমতো চাপে থাকত রাজ্য বিজেপি শিবির। সেই তথাগত রায়ই হঠাতই সাময়িকভাবে অবসর নিয়ে নিলেন রাজ্য বিজেপি থেকে। কিন্তু হঠাৎ এহেন পদক্ষেপ কেন! কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চাপেই কি আপাতত রণে ভঙ্গ দিলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়? শনিবার তথাগতের একটি টুইটের পর থেকেই এই জল্পনা ছড়ায়। তবে এ ব্যাপারে একটি বাক্যও খরচ করেননি মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, টুইটের বাইরে আমি একটি কথাও বলব না।
{link}
এদিন সকালে টুইটে তথাগত লেখেন, আপাতত বিদায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। পুরভোটের ভোটের ফলের অপেক্ষায় থাকব। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে বঙ্গ বিজেপি। তার পর থেকে দলীয় নেতৃত্বকে নিশানা করেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। প্রায় প্রতিদিনই টুইট-বাণে বিদ্ধ করতে থাকেন দলীয় নেতৃত্বকে। রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের দিল্লির নেতাদের কয়েকজনকেও আক্রমণ শানান তথাগত।
সামলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব। হয়েছিলেন মেঘালয়ের রাজ্যপালও। রাজ্যপাল হিসেবে অবসর নেওয়ার পরে তথাগত ফেরার চেষ্টা করেন সক্রিয় রাজনীতিতে। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফল খারাপ হতেই শুরু করেন টুইট-বাণ বর্ষণ। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে টাকা এবং নারী চক্রের অভিযোগও তোলেন তথাগত। ভোটে দাঁড়ানো তারকাদের নগরীর নটী বলেও আক্রমণ শানান। একাধিকবার আক্রমণ করেন বিজেপির সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। তার জেরে তাঁকে দল ছেড়ে চলে যেতে বলেন দিলীপ। তার পরেও বাণ-বর্ষণ বন্ধ হয়নি বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের। সর্ব শেষ সংযোজন এই টুইট।
{link}
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তথাগতের মুখে বোধহয় লাগাম পরিয়েছেন দলের দিল্লির নেতারা। কারণ তথাগতকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের নেই। তিনি যে লেভেলের নেতা, সেই স্তরের নেতাকে শাস্তি দিতে পারেন কেবলই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁরাই বোধহয় তাঁকে মুখে কুলুপ আঁটতে বলেছেন। যার প্রতিক্রিয়া ধরা পড়েছে নয়া টুইটে।
তথাগতর টুইটের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষের পাল্টা প্রতিক্রিয়া, বাংলার রাজনৈতিক বিনোদন জগতে এ এক অপূরণীয় সাময়িক ক্ষতি। তিনি যে দক্ষতায় দর্শককে হাসাতেন, তাঁর অবদান মানুষ মনে রাখবেন। পাগলা দাশুর নাটকে 'আবার সে এসেছে ফিরিয়া'-র মত সংলাপের অপেক্ষায় থাকব। তবে কামিনী অংশ বাদ দিলেও কাঞ্চন অংশে সিবিআই, ইডির তদন্তের দাবি থাকলই। আসন্ন সময়ে আবার তাকে এহেন ‘বিস্ফোরক’ অবস্থায় দেখা যায়, এখন তাই দেখার অপেক্ষার রাজ্য রাজনৈতিক মহল।
