একসময় রাজ্য বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। সেই মুকুলই কিছুদিন আগে বিজেপি ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। এবার দলের সেই পুরোনো সৈনিক এক মুকুলে কুপোকাত বিজেপি! এ রাজ্যে বিজেপির ভিত এবার নাড়াতে শুরু করে দিয়েছেন বঙ্গ চাণক্য। এবার ভাঙতে চলেছে ত্রিপুরার বিজেপিও! সম্ভাবনা অনেকটা সেই দিকেই। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা সভায় অনুপস্থিত গুনে গুনে ১০ জন বিধায়ক। ঘটনার জেরে ত্রিপুরায় পতন হতে পারে বিপ্লব দেব সরকারের।
{link}
বিধানসভা নির্বাচনের পরেই তৃণমূল থেকে ছেলেকে নিয়ে ঘাসফুল শিবিরে ফিরে গিয়েছেন মুকুল রায়। তার পর বিজেপির একাধিক বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে সূত্রের খবর। তাঁদের মধ্যে কজন তৃণমূলে যোগ দেন, তা দেখার। ইতিমধ্যেই কয়েকজন যোগদানও করেছেন তৃণমূলে। তবে মুকুল এফেক্ট যে ভালোই ফল দিতে চলেছে, তা মালুম হয় ত্রিপুরার দিকে তাকালে। সূত্রের খবর, গতকাল শুক্রবার দলীয় বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। ওই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন সুদীপ রায়বর্মণ, রামপ্রসাদ পাল, পরিমল দেববর্মণ, আশিস দাস, আশিসকুমার সাহারা। এঁদের মধ্যে সুদীপ মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ। বাকিরাও মুকুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। শুধু মুকুল ঘনিষ্ঠরাই নন, বৈঠকে গরহাজির ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মাও। তিনি অবশ্য অন্যত্র অনুষ্ঠান হেতু বৈঠকে থাকতে পারবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন। তবে বিজেপির একাংশ তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে চান। তা নিয়ে বিপ্লবের সঙ্গে যিষ্ণুর ঠান্ডা লড়াই অব্যাহত। তাই তিনিও গরহাজির থাকায় অন্য গন্ধ পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
{link}
ত্রিপুরা বিধানসভার আসন সংখ্যা ৬০। সরকার ধরে রাখতে প্রয়োজন অন্তত ৩১ জনের সমর্থন। এর মধ্যে ১০ জন যদি বেঁকে বসেন, তাহলেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে বিপ্লবের সরকার। সরকার বাঁচাতে গেরুয়া শিবির কী করে, সেই দিকেই লক্ষ্য থাকবে মানুষের। বঙ্গের পরে এবার কি ত্রিপুরাতেও নিজেদের ফুল অক্ষত রাখতে অক্ষম হবে বিজেপি?
