কয়েকদিন পূর্বেই ত্রিপুরায় থাকাকালিন পুরনো দলের কর্মীদের দ্বারা রীতিমতো বিশ্রীরকম ট্রোল হয়েছেন তিনি। তার গাওয়া ‘এই তৃণমূল আর না’ গান-এর কারনে। এবার তৃণমূলে এসে বিজেপির থেকেও বেশি মন দিয়ে কাজ করার মন্তব্য এই গায়ক রাজনীতিবিদের। সম্প্রতি তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন বাবুল সুপ্রিয়। তখনই তিনি ওই কথা বলেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপির দাবি, মন্ত্রিত্ব পেয়েও কাজে নিষ্ঠাবান ছিলেন না বাবুল। তাই খোয়া গিয়েছে মন্ত্রিত্ব।
২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন বাবুল। ওই বছরই লোকসভা নির্বাচনে আসানসোলের প্রার্থী হন তিনি। গোহারা হারান তৃণমূল প্রার্থী দোলা সেনকে। এর পরেই মন্ত্রী করা হয় বাবুলকে। উনিশের ভোটেও বাবুল ফের ধরাশায়ী করেন তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনকে। এবারও তাঁর ঠাঁই হয় মোদির মন্ত্রিসভায়। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় বাদ পড়েন বাবুল। তার পরেই প্রথমে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব ও পরে গেরুয়া শিবির ছেড়ে বাবুল ভিড়ে যান তৃণমূলে।
{link}
বুধবার সন্ধ্যায় আসানসোলের পাঁচ গাছিয়ায় পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাবুল। পরে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তখনই তিনি বলেন, আমি যে দলই করি না কেন, তা মন দিয়েই করেছি। তৃণমূলে এসে বিজেপির থেকেও বেশি মন দিয়ে কাজ করব।
বিজেপির দাবি, বিজেপিতে বাবুল এসেছিলেন গুছোতে। মন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। নিষ্ঠার অভাবেই মন্ত্রিত্ব খোয়া গিয়েছে। যদিও বাবুলের দাবি, বিজেপি করার সময়ও একনিষ্ঠভাবেই দলের কাজ করেছিলেন। এবার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেও দলের প্রতি নিষ্ঠার অভাব হবে না তাঁর।
{link}
তৃণমূলের তরফে বাবুলকে প্রথমে পাঠানো হয় গোয়া। সেখান থেকে ফেরার পর তাঁকে পাঠানো হয় ত্রিপুরায়। বর্তমানে বাবুল দেখাশোনা করছেন তৃণমূলের বঙ্গ-সংগঠন। যেখানে কয়েকদিন আগে সায়নি ঘোষের সাথে একত্রে পথসভা করার সময়ে পাশ দিয়ে যেতে থাকা একটি বিজেপির র্যালি তারই গান চালিয়ে যেতে থাকে। রাজনৈতিক দলবদলের আগে এই গান গেয়েছিলেন তিনি। সবমিলিয়ে এখন রাজনীতিতে বেশ নাজেহাল অবস্থা বাবুলের।

