একুশের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলে দলে লোকজন তৃণমূল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন পদ্মফুলের পতাকা। ভোটে বিজেপি গোহারা হতেই শুরু হয় উজান স্রোত। গতকালই অপ্রত্যাশিত ভাবে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।তাহলে কি স্বার্থের রাজনীতিই হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতির অঙ্গ? গতকাল বিকেল থেকে বাবুল সুপ্রিয়ের দলবদলের পর এই প্রশ্নই চর্চায় বাদ যায়নি বাংলার কোন অংশ।
{link}
মাস কয়েক আগে কেন্ত্র থেকে মন্ত্রিত্ব খোয়ান বাবুল। তার পর রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সোশাল মিডিয়ার একটি পোষ্টে। তারপর থেকেই শুরু হয়ে যায় চর্চা বঙ্গ রাজনীতির প্রান্তে। এরই মধ্যে শনিবারের বারবেলায় অভিষেক ব্যানার্জির হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন বাবুল সুপ্রিয়। ভোটে বিজেপি গোহারা হতেই শুরু হয় উজান স্রোত। গেরুয়া শিবির ছেড়ে লোকজন ভিড়তে থাকেন তৃণমূলে। তৃণমূলের পতাকা হাতে নেওয়ার জন্য হা-পিত্যেশ করেও অপেক্ষা করতে থাকেন অনেক বিজেপি নেতা।
{link}
তবে সব চেয়ে যেটা নজর কেড়েছে রাজনীতিবিদদের সেটা হল বিজেপির টিকিটে জিতে মুকুল রায়ের তৃণমূলে যোগ দেওয়া এবং পিএসির চেয়ারম্যান পদে বসা। মুকুলের তৃণমূলে ভেড়ার ঢের আগেই এ খেলা শুরু হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতিতে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন বেশ কয়েকজন ‘মৌ-লোভী’র দল। যার জেরে কংগ্রেস সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে ঠিকই, ফুলেফেঁপে উঠেছে তৃণমূল। বামেদের কয়েকজনও আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে তৃণমূলে ভিড়েছিলেন। তবে সে সংখ্যা খুবই কম।
{link}
রাজ্যে যেভাবে কংগ্রেস ভেঙে গিয়েছিল, তেমনি করে এখন ভাঙছে বিজেপি। কেউ ছেলের ‘ব্যবসা বাঁচাতে, তো কেউ পদের মোহে, কেউ বা ছেলেমেয়ের চাকরির জন্য, কেউ আবার স্রেফ গা বাঁচাতে শাসক দলে ভিড়ে যাচ্ছেন আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ আর্দশবান রাজনীতিকেরা। প্রত্যাশিতভাবেই সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হয়েছেন দলবদলুরা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ন্যায়-নীতি-আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে এই দলবদল বাংলার মানুষ কখনও ভালোভাবে নেয়নি। আগামী দিনেও নেবে না। সব চেয়ে বড় কথা মন্ত্রিত্ব যতদিন থাকবে দলে থাকব, আর চলে গেলে দল ছাড়ব, এটা রাজনীতির লক্ষ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, এখন দলবদল ব্যবসায়িক অ্যাঙ্গেল থেকে হচ্ছে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, বাংলার ফুটবলে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মহামেডানের জার্সি বদল দেখেছি। কিন্তু বাংলার রাজনীতিতে জার্সি বদলের বর্তমান প্রবণতাটা নতুন।

