রাজনৈতিক হিংসা যেন থামতেই চাইছে না রাজ্যে। একের পর এক প্রাণহানি হচ্ছে শুধুমাত্র রাজনীতির কারনে। ফের রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার বলি এক। বিজেপি নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য বীরভূমে। আজ, মঙ্গলবার সকালে খয়রাশোলের হজরতপুর গ্রামের বিশ্বরূপ মন্দির চত্বরের পরিত্যক্ত ঘর থেকে দেহ উদ্ধার হয় তাঁর। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরাই তাঁকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দিয়েছে মন্দিরে। যদিও গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
{link}
স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর পঁয়ত্রিশের ইন্দ্রজিৎ সূত্রধর বিজেপির ৩৩ নম্বর বুথের সভাপতি ছিলেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পার্টির হয়ে ব্যাপক খাটাখাটনিও করেছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, শনিবার দাদার বাড়ি যাবেন বলে বের হন তিনি। পরে জানা যায়, তিনি সেখানে পৌঁছননি। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি তাঁর। এদিন সকালে হজরতপুর গ্রামের বিশ্বরূপ মন্দির চত্বরের একটি পরিত্যক্ত ঘরে ইন্দ্রজিতের দেহ ঝুলতে দেখেন স্থানীয়দের কয়েকজন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ইন্দ্রজিতের। তাঁর মুখ বাঁধা ছিল রুমাল দিয়ে। দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল হাত-পা। যথেষ্ট পরিমান অত্যাচারের পরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অনুমান স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় ওই যুবকের প্রানহানির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই ঘটনায় লেগেছে রাজনীতির রং। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ইন্দ্রজিৎকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দেহ। বিজেপির মণ্ডল সহ সভাপতি ভজহরি বাগের অভিযোগ, ইন্দ্রজিৎকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় বিধায়ক বিজেপির অনুপ সাহা বলেন, এই এলাকায় বিজেপির ওপর যে সন্ত্রাস চলছে, এটাই তার উদাহরণ। আমাদের কর্মীকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করুক পুলিশ।
{link}
এদিনই পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা ১ নম্বর ব্লকের কসবায় মাঠের মাঝখানে থাকা একটি পুকুর থেকে এক বিজেপি কর্মীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের নাম তপন খাটুয়া। হরিচক এলাকার বাসিন্দা। পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, তাঁকে খুন করা হয়েছে। এবং এক্ষেত্রেও একইভাবে কাঠগড়ায় রাজ্যের শাসক দল।অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের।
দুঃখের বিষয় অভিযোগ উঠছে যে দলের বিপক্ষে তারা বলছে আমরা কোনভাবে জড়িত নয় অন্যদিকে একইভাবে তারা অভিযোগ তুলছে যারা অভিযোগ করছে এটা তাদেরই চক্রান্ত। মাঝখান থেকে প্রান যাচ্ছে কিছু নিস্পাপ মানুষের, স্বজনহারা হচ্ছেন তাদের পরিবারেরা।
