রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে মিলেছে বিপুল অঙ্কে জয়। তারপর ভবানিপুর উপনির্বাচনেও কার্যত বড়ো জয়-ই লাভ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিধ্বস্ত হয়ে হারতে হয় বিজেপিকে। তার পরেই ফের উপনির্বাচনে তিন কেন্দ্রে পরাজয় হয়েছে রাজ্য বিজেপির। ইতিমধ্যেই দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আরও চার বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। চারটির মধ্যে বিধানসভা নির্বাচনে দুটিতে জয়ী হয়েছিলেন পদ্ম-প্রার্থীরা। আর বাকি দুটির রাশ ছিল তৃণমূল নেতৃত্বের হাতে। এবার চারটি কেন্দ্রেই তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলকে হাতিয়ার করে জিততে মরিয়া বিজেপি। যদিও রাজ্যের শাসক দলের দাবি, চারটির একটিতেও এবার আর পদ্ম ফুটবে না।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় তৃণমূল। পর পর তিনবার রাজ্যের ক্ষমতায় আসীন হয় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেবার ভোট হয়েছিল ২৯২টি আসনে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন তৃণমূল নেত্রী স্বয়ং। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একদা তাঁরই সতীর্থ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর কাছে হাজার দুয়েক ভোটে হেরে যান মমতা। মুখ্যমন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরে ফের প্রার্থী হন ভবানীপুর উপনির্বাচনে। ভবানীপুর উপনির্বাচনের দিন ভোট হয় মুর্শিদাবাদের শামসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে। তিন কেন্দ্রেই গোহারা হারে বিজেপি। প্রত্যাশিতভাবেই মনোবল ভেঙে যায় বিরোধী দলের।
{link}
চলতি মাসের শেষের দিকেই অকাল ভোট হবে রাজ্যের চার কেন্দ্রে। এগুলি হল দিনহাটা, শান্তিপুর, খড়দহ এবং গোসাবা। এর মধ্যে একুশের বিধানসভা ভোটে প্রথম দুটিতে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির দুই সাংসদ। তাঁরা পদত্যাগ করায় হচ্ছে উপনির্বাচন। বাকি খড়দহ এবং গোসাবা দুটি কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কারণ মাসখানেক আগে তিন কেন্দ্রের ভোটে জনতার রায় গিয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই এবার খানিকটা সংশয়ে বিজেপি নেতৃত্ব।
তবে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে হাতিয়ার করেই জয়ের স্বপ্নে বিভোর বিজেপি। দলের নেতা অর্জুন সিং বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। তার সুবিধা আমরা পাব। একই কথা বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুরও। যদিও চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই তৃণমূল জিতবে বলে দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের। যদিও চার কেন্দ্রেই যেভাবেইক হোক তৃণমূলকে রামধাক্কা দিতে চাইছেন পদ্ম নেতৃত্ব। সফল কি হবেন তারা? সেই উত্তর বলবে সময়।
