আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূল নয়, বামেদের সঙ্গেই মূল লড়াই বিজেপির। কারণ আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল যে হাওড়া এবং কলকাতা পুরনিগমের রাশ পাবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত রাজ্যের বিরোধী শিবির বিজেপিও। সেই কারনেই রাজ্যের একটা বড়ো অংশের মানুষের মতামত তারা মূলত লড়ছে বামেদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে দ্বিতীয় হওয়ার দৌড়ে। কিন্তু পুরসভা নির্বাচনের লড়াই খাতায় কলমে অনেকটাই ভিন্ন ধরনের।
{link}
২০১৫ সালে শেষবারের মতো ভোট হয়েছিল কলকাতা পুরসভার। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১৪টিতেই জয় পায় তৃণমূল। ১৫টি ওয়ার্ডের রাশ গিয়েছিল বামেদের হাতে। বিজেপি পেয়েছিল সাতটা আসন। কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল ৫টি আসনে। ৩টি আসনে জয়ী হয়েছিলেন নির্দল প্রার্থীরা। ২০১৫ সালের পর আর হয়নি পুরসভার ভোট। তবে এই সময়সীমার মধ্যে ভোট হয়েছে দুটি। একটি উনিশের লোকসভা। অন্যটি একুশের বিধানসভা।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার একটি কেন্দ্রেও দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি। উপনির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয়ী হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন হাজার দুয়েক ভোটে। সেই তিনিই ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হন প্রায় ৫৮ হাজার ভোটে। শুধু ওই কেন্দ্রই নয়, রাজ্যের ৭টি বিধানসভা আসনেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে তৃণমূল।
ঘটনাপ্রবাহের জেরে বিজেপি নেতৃত্ব নিশ্চিত, ছোট লালবাড়ির রাশ এবারও আসছে না তাঁদের হাতে। তাই বামেদের হারিয়ে দ্বিতীয় হওয়াই লক্ষ্য গেরুয়া নেতৃত্বের। কলকাতায় সংগঠনের হাল যে হাঁড়ির, তা মেনে নিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এক বিজেপি নেতা বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফলের ওপর কিছুই নির্ভর করে না ঠিকই। তবে এটাও ঠিক যে কলকাতায় আমাদের সাংগঠনিক শক্তি বরাবরই কম। আর এখন তো বেশ ছন্নছাড়া অবস্থায়। তাই বড় লক্ষ্য নেওয়ার আর কোনও অর্থই হয় না। দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু দ্বিতীয় স্থান নিয়েও প্রতিপক্ষ বামেদের সাথে লড়াইটা কঠিন। কারন বামেরা এখন শূন্য থকে ফেরার লড়াইয়ে নেমেছে। এছাড়াও করোনা পরিস্থিতিতে তারা যেভাবে সাধারন মানুষের পাশে থেকেছিল, তার একটা প্রভাব তো ভোটবাক্সে পড়বেই। আর এই লড়াই একেবারে জনপ্রিতিনিধিদের গ্রাউন্ডের লড়াই। লাল না গেরুয়া, কে দখল করবে দ্বিতীয় স্থান?
