দু দু বার জোট, কিন্তু ফল ভালো হয়নি একবারও। প্রথম কংগ্রেসের সাথে জোটে লাল ব্রিগেডের পক্ষে আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭টি তে, শেষ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এর সাথে যোগদান করে আইএসএফ-ও কিন্তু এবারেও জোটের পক্ষে আসে মাত্র একটি আসন, সেটিও জয়ী হন আইএসএফ প্রার্থী। বামেদের আসন সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ০-তে। সেই কারনেই একলা চলোর দাবি উঠেছিল বামফ্রন্টের অন্দরে। এবার এই দাবিতে সরব হল ফ্রন্টের অন্যতম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক। ফ্রন্টের বৈঠকে ফরওয়ার্ড ব্লকের এই দাবি অস্বস্তি বাড়াল সিপিএম নেতাদের।
{link}
জোট গড়ে একুশের বিধানসভা ভোটে লড়েছিল বাম এবং কংগ্রেস। পরে ওই জোটে শামিল হয় ফুরফুরার পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির নয়া দল আইএসএফ। একমাত্র ভাঙড় ছাড়া অন্য কোনও আসনে জয়ী হয়নি জোটের কোনও প্রার্থী। ভাঙড়ে জয়ী হয়েছিলেন আইএসএফ। তার পরেই জোট-নীতির কঠোর সমালোচনা করেন বামফ্রন্টের শরিকরা। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বিরোধিতায় রাজ্য কমিটিতে সরব হয়েছেন সিপিএম জেলা নেতৃত্বও। কলকাতা, বর্ধমান, ছাড়িয়ে জোট ভাঙার দাবি শোনা গিয়েছিল বিভিন্ন জেলা নেতৃত্বের মুখেও।
১৯ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ হবে হাওড়া ও কলকাতা পুরনিগমের। তার আগে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনায় বসেছিল বামফ্রন্ট। সেখানেই ফরওয়ার্ড ব্লকের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, জোট নয়, ফরওয়ার্ড ব্লক একলা চলো নীতির পক্ষেই। একলা চলো নীতির এই দাবির নেপথ্যে রয়েছে শান্তিপুর উপনির্বাচনে বামেদের ভোট বৃদ্ধি। শান্তিপুরে একলা লড়ে ভালোই ফল করেছে সিপিএম। তার পরেই দলের অন্দরে জোরালো হয়েছে একলা চলোর দাবি।
{link}
জোট নিয়ে ফ্রন্টের মনোভাব বুঝতে সোমবার বৈঠকে বসেছিল বামফ্রন্ট। বৈঠক শেষে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, পুরভোট এলাকা ভিত্তিক। সেখানে জোট নিয়ে অবস্থান স্থানীয় নেতাদের ওপর ছাড়া উচিত। পাশাপাশি এটাও ঠিক স্বাধীন কোনও দলের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। যার ফলে এখনও জোট হবে কি না সেবিষয়ে স্পষ্ট ভাবে কোনরকম ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তবে দু দু বার ভরাডুবির পর এখন কার্যত প্রত্যাবর্তনের লড়াই কমরেডদের। সেই লড়াই কারুর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিয়, নিজ কাঁধে নিজ দমেই লড়ার পক্ষে মত অধিকাংশের।
