একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে আসন দাঁড়িয়েছে শূন্যে। শুরু হয়েছে শূন্য থেকে ফিরে দাঁড়ানোর লড়াই। এহেন পরিস্থিতিতেই পাশে নেই কংগ্রেস, তার পাশাপাশি সরে দাঁড়িয়েছে আব্বাস সিদ্দিকির দল আইএসএফও। এমতাবস্থায় রাজ্যের তিন কেন্দ্রের নির্বাচনে ঘোর বিপাকে বামেরা। মিটিং-মিছিল-প্রচার চলছে কিন্তু সবই। তবুও কোথাও যেন মনে হচ্ছে কেটে গিয়েছে সেই লড়াইয়ের তাল।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট হওয়া ২৯২টি আসনেই প্রার্থী দেয় সংযুক্ত মোর্চা। বাম-কংগ্রেসের ওই জোটে শামিল হয় ফুরফুরার পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির দল আইএসএফ। তিন শরিক দলই কোমর কষে প্রচারে নামে। এত করেও অবশ্য লাভ হয়নি জোটের। একমাত্র ভাঙড় ছাড়া আর কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁত ফোটাতে পারেনি জোট। ভাঙড়ে জোটের তরফে জয়ী হয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী।
{link}
৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন। রাজ্যের সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর বিধানসভা আসনেও ওই দিনই হবে ভোট। ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কংগ্রেস হাইকমান্ড। তাই মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার পাশাপাশি প্রচারও করছে না কংগ্রেস।
ভবানীপুরে বামেদের প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস। তরুণ আইনজীবী। ছাত্রাবস্থা থেকেই বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এহেন তরুণ তুর্কিকে জেতাতে মরিয়া বাম শিবির। তবে তা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বামের অন্দরে। কারণ প্রচারে নেই কংগ্রেস। আইএসএফও প্রচার করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে পড়েছেন বাম নেতৃত্ব।
ভবানীপুরে কংগ্রেসের ভালোই ভোট রয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটও প্রচুর। তাই কংগ্রেস এবং আইএসএফ দুই দল প্রচারে না নামায় বিপাকে সিপিএম। যদিও কোমর কষে প্রচার করছেন বাম নেতারা। তবে তার পরেও অঙ্ক মিলবে নাকি হাতে রইবে শুধুই পেন্সিল, তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরাও।
যদিও যেভাবে ভাবমূর্তির ক্ষয় হয়েছে এখন যাই হোক ময়দানে একাই লড়তে চাইছে বামেরা বলেও মতামত একটা অংশের রাজনীতিবিদদের। কারন ক্ষয় পেলেয় ভাবমূর্তি সম্পূর্ন নষ্ট হয়নি। বরং মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করায় বেশ কিছুটা পরিচয় বেড়েছে দলের। তাই শূন্য থেকে ফেরার লড়াইটা একাই নিজেদের যুব প্রজন্মের হাত ধরে করতে চাইছে বামেরা।
