নজরে ত্রিপুরা পুরসভার ভোট। তাই এখন থেকেই নিজেদের ঘুঁটি সাজাচ্ছে চার প্রধান দলই। বিজেপি তো বটেই, ত্রিপুরা পুরসভার রাশ হাতে পেতে মরিয়া বিরোধী দল সিপিএম। অস্তিত্ব বজায় রাখতে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে কংগ্রেসকেও। আর বিধানসভা নির্বাচনে জমি পেতে হলে প্রমাণ করতে হবে তৃণমূলকেও। তৃণমূল ত্রিপুরায় দাঁত ফোঁটানোয় পাল্টেছে ওই রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র। তাই এবারের ভোটও কার্যত এক অন্য অভিজ্ঞতা হতে চলেছে সেই রাজ্যের মানুষের।
কালীপুজোর মরশুম কাটলেই পুরসভার ভোট ত্রিপুরায়। ২৫ নভেম্বর আগরতলা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সহ ত্রিপুরায় ২০টি পুরসভার ভোটগ্রহণ। ভোটের ফল বের হবে ২৮শে নভেম্বর। ত্রিপুরায় জেলা রয়েছে ৮টি। পুরসভা ২০টি। এই ২০টি পুরসভার ৩৩৪টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। ভোট দেবেন ৫ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭৭২জন।
{link}
ত্রিপুরার এই পুরসভার ভোটই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে বিরাট গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিপুরার ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। তাই গেরুয়া নেতৃত্বের কাছে পুরসভার রাশ হাতে নেওয়াটা জরুরি। কারণ ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই পুরসভা নির্বাচনই নান্দীমুখ। তাই সিংহভাগ পুরসভার রাশ হাতে না পেলে বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বিজেপি।
ত্রিপুরা পুরসভার নির্বাচন বিরোধী দল সিপিএমের কাছেও সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কুর্সি যাওয়ার পর রাজ্যে এখন বামেদের কী অবস্থা, তা ধরা পড়বে ত্রিপুরার ফলে। অস্তিত্ব রক্ষার দায় প্রায় ক্ষীয়মান কংগ্রেসেরও। আর জোর কদমে ঝাঁপিয়ে পড়া তৃণমূলও চাইবে ত্রিপুরা পুরসভা নির্বাচনে থাবা বসাতে। পুরসভায় জায়গা করতে না পারলে বিধানসভা নির্বাচনেও তারা কতটা কী করতে পারবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাবে। তাই প্রমাণ করতে হবে তাদেরও।
{link}
প্রথমত এই ভোটের লড়াই কার্যত শাসকদল বিজেপির কাছে নিজদের শক্তি প্রদর্শন করার একটা সুযোগ, অন্যদিকে তৃণমূলের জন্য এটা বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে একটি মহড়া বলা চলে, পুরসভা ভোটে সিট জয় করতে পারলে সেটা একটা বড়ো ধাক্কা হবে শাসক শিবিরের কাছে। বিরোধী দল সিপিএম ও কার্যত তৃণমূলের আগমনে বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। শেষ হাঁসি কে হাঁসে সেটাই দেখার।
