নিজস্ব সংবাদাতা: টোটো চালিয়ে কোনরকমে চলে সংসার। সেই টোটো নিয়েই আবার একাধারে চলছে প্রচারও। তার এরুপ কাজ দিয়েই নজর কেড়ে নিয়েছেন নদীয়ার শান্তিপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম প্রার্থী সরোজ দাস। চরম অভাবের মধ্যেও তার অদম্য সাহসিকতার প্রশংসা না করলেই নয়।
প্রথমে তার জীবিকা ছিলো তাঁত শ্রমিক। তার পরিবার বরাবরই আর্থিক দিক থেকে তেমন সচ্ছল ছিল না। পরবর্তীকালে তিনি সংসারের অবস্থা উন্নত করবার জন্য টোটো কেনেন। টোটো চালিয়ে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই কোনমতে তিনি সংসার চালান। যৌবনকাল থেকেই তিনি হলেন বাম মনোভাবাপন্ন একজন মানুষ কলেজ জীবনের শুরুর দিক থেকেই তিনি নাম নথিভুক্ত করেছেন এসএফআই দলে। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রথম দলের সদস্য পদ লাভ করেন। বাম আমল চলা কালীন দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি ।বর্তমান সময় যখন ক্ষমতা পুরপুরি বিরোধী দলের হাতে এই সময়ও তিনি মনে জোর রেখে পাল্লা দিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে যাচ্ছেন।
{link}
হাল ছাড়ার মানুষ নন তিনি। সেই ফলস্বরূপ এবারে শান্তিপুরের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসাবে তাকে নির্বাচন করা হয়েছে।প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন, সংসার চালানোর জন্য তাকে পেটের দায়ে টোটো চালাতে হচ্ছে। টোটো চালিয়ে বাকি যে সময়টা তিনি পান সেই অবশিষ্ট সময়টা তিনি সকল সমর্থকদের নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দলের প্রচারের কাজে।সরোজ দাসের কথা অনুযায়ী বেশভালো সাড়া পাচ্ছেন তিনি। বিরোধীদের প্রসঙ্গে বলেন যারা আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে তারা সকলেই আমার শত্রু নয় বরঞ্চ বন্ধু। সাধারণ মানুষ যাকে পছন্দ করবে সেই জিতবে।আমার মতে এবারের ভোটে যা সমর্থন পাচ্ছি তাতে জয়লাভ আমারই হবে। সরোজ দাসের কথায় তিনি সাধারন মানুষের পাশে থেকে নিয়ে তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে থাকতে চান।
শেষ বিধানসভা নির্বাচন থেকেই চোখে পড়েছে সিপিআইএম দল প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে সাধারণ জনগনের মধ্য দিয়েই কোন ব্যাক্তিকে।এক্ষেত্রেও তার বিলম্ব ঘটেনি। তাদের মুল ফোকাস গ্রুপ হল নবীন প্রজন্ম।প্রত্যেকটি দল নিজ আসন আরও পোক্ত করবার জন্য নানান পথ অবলম্বন করছে।তারই মাঝে সিপিআইএম নিজের স্থান করে নিতে পারে কিনা সেটাই দেখার জ্যন্য অপেক্ষা করছে সকল সমর্থকরা।তাদের নতুন কৌশল দেখার জন্য সকলেই আগ্রহী। কিন্তু এত টানাপোড়েনের পরেও তাদের অনন্ত সাহস ও মনোবল চোখে পড়ার মতো। সরোজ দাস তার জীবন যুদ্ধে জয়ী হলেও রাজনৈতিক জীবনে তার জয়ের ফলাফল কি হতে পারে সেটাই লক্ষণীয় বিষয়।
