বহু আশা ও উদ্দীপনা নিয়ে দিল্লি জয়ের উদ্দেশ্যে নামলেও, দিল্লি যে এখনও বহু দূর সেকথা যেন একটু হলেও টের পেয়েছে তৃণমূল শিবির। ভিনরাজ্যের লড়াই যে অতোটাও সোজা না, তা কার্যত স্পষ্ট এখন ঘাসফুল শিবিরের কাছে। যে কটি ভিনরাজ্যে ঝাঁপিয়েছিল তৃণমূল একটিতেও খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি তারা। একদিকে গোয়ায় মিলেছে গোঁত্তা! অন্যদিকে ত্রিপুরা দিয়েছে জোর ধাক্কা! তাই কি কংগ্রেসের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে তৃণমূল?আপাতত এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ সম্প্রতি অভিষেকের একটি মন্তব্য। তিনি বলেছেন, কংগ্রেসকে ভাঙা কিংবা কংগ্রেসকে দুর্বল করা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য বিজেপিকে হারানো।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ পেয়ে বাংলার ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। এর পরেই দেশ জয়ের দিকে নজর দেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যেই প্রথমে উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরা, পরে আরব সাগরের তীরের গোয়ার দিকে নজর দেন তাঁরা। গোয়ায় দ্রুত সংগঠনও গড়ে ফেলেন জোড়াফুল নেতৃত্ব। তবে অতি সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে গোয়া গোমন্তক পার্টি সহ নানা দলে ফিরে গিয়েছেন দলবদলুরা। ঘটনায় গোয়ায় কার্যত গোঁত্তা খেয়েছে তৃণমূল!
একই কথা প্রযোজ্য ত্রিপুরার ক্ষেত্রেও। একুশে হয়ে গেল ত্রিপুরা পুর নির্বাচন। ওই ভোটে প্রার্থী দেয় তৃণমূল। যদিও একমাত্র আমবাসা ছাড়া অন্য কোথাও জয়ী হননি তৃণমূলের কোনও প্রার্থী। আমাবাসার জয়ী প্রার্থীও যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। এদিকে বিজেপির বিদ্রোহী বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ তৃণমূলে যোগ দেবেন বলে শোনা যাচ্ছিল। যদিও এখন শোনা যাচ্ছে কংগ্রেসেই ফিরছেন সুদীপ। কংগ্রেস নেতা প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢরার সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠকও সেরে ফেলেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ তৃণমূল শিবির।
{link}
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পরেই ফের কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করতে উদ্যোগী হয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রার্থী না দিয়ে যে রাজনৈতিক সৌজন্য দেখিয়েছিল সোনিয়া গান্ধির দল, পরবর্তীকালে তৃণমূল তাকে প্রতি পদে অপমান করেছে বলে দাবি কংগ্রেসের। সেই কারণেই কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি গড়ে তুলতে আগ্রহী তৃণমূল। তবে কংগ্রেস তাতে সাড়া দেয় কিনা, সেটাই দেখার। কারন গোয়া ও মেঘালয়ে কংগ্রেসের সংগঠনে ধ্বস নামিয়েছে এই তৃণমূলই। যে কারনে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর কার্যত এখন বেজায় চটে আছেন কংগ্রেস নেতৃত্বেরা। সামনের পথ জটিল, লড়াইও বেশ জটিল।
.jpeg)
